১১ দিন দরজায় প্রেমিকা, নিরুদ্দেশ প্রেমিক

প্রিয় দেশ ডেস্ক: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বাংলাবাড়ি এলাকার আনিছুর রহমান লেলিনের (২৩) বাড়িতে অবস্থান করছেন তার প্রেমিকা দাবি করা এক তরুণী (২০)। ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছেন লেলিন। এ ঘটনায় দুই পরিবার (প্রেমিক-প্রেমিকার) থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছে।

থানায় দেওয়া অভিযোগ এবং প্রেমিকা দাবি করা তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাংলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে আনিছুর রহমান লেলিন পাটগ্রাম পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের এই শিক্ষার্থীর (প্রমিকা দাবি করা তরুণী) সঙ্গে তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও করেন।

একপর্যায়ে লেলিন ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করেন।

এরপর গত ২৭ আগস্ট লেলিনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন ওই তরুণী। তার দাবি, ওই বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান লেলিন। কিন্তু তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ওই (প্রেমিকের) বাড়িতেই অবস্থান করছেন তরুণী।

এ ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, আনিছুর রহমান লেলিন বিয়ে রেজিস্ট্রি ও পড়াশোনার কথা বলে আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে যান। পরে বাবা-মা ও ভাইয়ের পরামর্শে পালিয়ে যান।

লেলিনের বাবা নুর ইসলাম ও মা রুবিনা বেগম বলেন, ছেলে যেহেতু ভুল করেছে, আমরা মেনে নিয়েছি। ছেলে যদি বিয়ে করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। মেয়ের পরিবারের লোকজন আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। এজন্য আমরাও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

প্রেমিকা দাবি করা তরুণী (২০) বলেন, ‘আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে লেলিন। তাকে তার পরিবারের লোকজন অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে। আমি তো মেয়ে, আমার কী হবে। আমি খুব স্বাভাবিকভাবে বলছি, আমার বিয়ে না হলে আমি আত্মহত্যা করব।’

এদিকে যোগাযোগ করা হলে আনিছুর রহমান লেলিন সবকিছুকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে আছি। আমার সঙ্গে ওই মেয়ের কয়েক দিন আগে পরিচয় হয়। বন্ধুর বোন হিসেবে কথা বলেছি।

ওই মেয়ে যা বলেছে সব মিথ্যা। আমি এখন আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি। ওই মেয়েকে আমি কখনোই বিয়ে করব না। ষড়যন্ত্র করে মেয়েটিকে আমাদের বাড়িতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলা করে করুক, মামলা চালাব।’

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, উভয় পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

Leave a Reply