টানা ১৭ ঘণ্টায় পুরো কোরআন নির্ভুল খতম যাকারিয়ার

প্রিয় দেশ ডেস্ক: শিক্ষককে নির্ভুলভাবে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ শুনিয়েছেন হাফেজ শরীফ আহমদ যাকারিয়া। এতে তার সময় লেগেছে মাত্র ১৭ ঘণ্টা। এ সময়ের মধ্যে শুধু নামাজ ও খাওয়ার সংক্ষিপ্ত বিরতির সময় ছাড়া কোনো বিরতি নেননি হাফেজ যাকারিয়া।


মৌলভীবাজার জেলার নুরুল কোরআন মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের এই শিক্ষার্থী সবক তার শিক্ষককে পুরো কোরআনুল কারিমের হদর তেলাওয়াত শুনিয়েছেন। গড়ে ২৫ মিনিটে তেলাওয়াত করেছেন ১ পারা। একটানা তেলাওয়াতে তার কোনো ভুল হয়নি। শিক্ষক তার তেলাওয়াতে কোনো লোকমা দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে জানা যায়।


এ বিষয়ে হাফেজ যাকারিয়ার ওস্তাদ হাফেজ মাওলানা লোকমান আল-মাহমুদ জানান, ‘নামাজের সময় ও খাবারের সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া ফজরের পর থেকে টানা ১৭ ঘণ্টায় পুরো কোরআনুল কারিম মুখস্থ শুনিয়েছে হাফেজ শরীফ আহমদ যাকারিয়া। আমি তার থেকে হদর তেলাওয়াত শুনেছি। গড়ে প্রতি পারায় ২৫ মিনিট সময় লেগেছে তার।

তিনি আরও জানান, ‘খতম শুরুর আগে হাফেজ শরীফ আহমদ যাকারিয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, না দেখে নির্ভুল শোনাতে পারবা তো? পূর্ণ আত্মবিশ^াস ও সাহসের সঙ্গে সে বলছিল ‘জ্বি ইনশাল্লাহ’।

আমি মনে মনে ধরে নিয়েছিলাম, প্রতি দশ পারায় একটা লোকমা ক্ষমাযোগ্য। তবে ত্রিশ পারায় তিনটির বেশি ভুল হলে এই খতম আর শোনা হবে না। নতুন করে আবার শুরু থেকে শোনাতে হবে।

অবিশ^াস্য হলেও সত্যÑ যাকারিয়া আমাকে অবাক বিস্মিত করে দিয়েছে। পুরো কোরআনুল কারিম নির্ভুলভাবে শুনিয়েছে। না কোনো শব্দ ভুল করেছে। না কোনো ইয়াদ ছুটে গেছে।’


তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটা আমার মহান রবের মহা অনুগ্রহ। সব প্রশংসা শুধু তারই। যিনি তওফিক দিয়েছেন কোরআন পড়ার, কোরআন ছোঁয়ার, কোরআন মুখস্থ করার। প্রশংসার যত শব্দ; যত বাক্য সবই তোমার তরে হে কোরআন নাজিলকারী!’


হাফেজ যাকরিয়ার শিক্ষক উচ্ছ¡সিত হয়ে বলেন, ‘যাকারিয়া আমার জীবনের প্রথম কোনো একজন ছাত্র; যে পূর্ণ কোরআনুল কারিম বিনা লোকমায় আমাকে শুনিয়েছে।’
উল্লেখ্য, হাফেজ শরীফ আহমদ যাকারিয়া শর্ত মেনে পুরো কোরআন মুখস্থ শোনাতে সক্ষম হন।


কোরআন শোনা শুরু করার আগে শিক্ষক লোকমানও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, ‘তিনি তার ছাত্রের তেলাওয়াত মুখস্থ শুনবেন না বরং কোরআনের প্রতি অক্ষর দেখে দেখে তার পুরো তেলাওয়াত শুনবেন। সে লক্ষ্যে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন।

Leave a Reply