স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন শীর্ষ মাদক কারবারী সোহেল রানা (৩৫)। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নে ভোটে নেমেছেন তিনি।

মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোটের মাঠে রয়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, এই মাদক কারবারীর হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন চুনোপুঠি মাদক ব্যবসায়ীরা।

সোহেল রানা উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের উজানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মজিবর রহমান। থানা পুলিশের তালিকায় নাম না থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এই সোহেল রানা।

স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তের ওপারে ভারত। সোহেল রানার বাবা একসময় চোরাচালানে যুক্ত ছিলেন। বাবার হাত ধরেই চোরাচালান ও মাদক ব্যবসায় যুক্ত হন সোহেল। 

এলাকাবাসী বলছেন, প্রথম দিকে হোটেল কর্মচারী ছিলেন সোহেল রানা। যাত্রীবাহী বাসে চালকের সহকারীও ছিলেন দীর্ঘদিন। এক পর্যায়ে জড়িয়ে যান মাদক ব্যবসায়। এখন তিনি গোদাগাড়ীর শীর্ষ দশ মাদক কারবারীর একজন।

অবৈধ এই কারবারে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন সোহেল রানা। রাজশাহী শহরে তিনটি এবং গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক তিনি। রাজশাহী শহরে রয়েছে তিনটি দোকান। ধানি জমি কিনেছেন দেড়শ বিঘার উপরে। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে সোহেল রানা। জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টতা থাকলেও অবৈধ কারবার চালাতেই তিনি ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ছত্রচ্ছায়ায় থেকেছেন। অর্থের জোরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদও বাগিয়ে নেন। পদ নেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় সোহেল রানা রাজশাহী জেলায় মাদক কারবার চালাতেন। এখন পাশের জেলা নওগাঁতেও ব্যবসা ছড়িয়েছেন তিনি। ফল বাগান ও পুকুর ব্যবসার  আড়ালে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় তার এই কারবার চলছে। 

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সোহেল রানা। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনোই মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না। জনগণ তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চাইছে। ফলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে নিচ্ছেন। আগামী ১১ নভেম্বর ভোট। জনগণ তার পক্ষেই রায় দেবেন।

সোহল রানা স্বীকার করেন, তার বাবা মজিবর রহমান চোরাকারবারি ছেলেন। তবে তিনি কখনোই মাদক কারবারি ছিলেননা। তিনি দাবি করেন,  তার নামে থানায় কোনো মামলা নেই। কি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় তার নাম গেলো সেই প্রশ্ন তারও। এসময় বৈধ ব্যবসা করে তিনি এই সম্পদ গড়েছেন বলেও দাবি করেন।

জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কখনোই জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট ছিলেননা। ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। ওয়ার্ড সভাপতিও ছিলেন। কিন্তু ইসলামী জালসা শুনতে গিয়ে তার নামে জামায়াত-শিবিরের মামলা হয়েছে। এই সংশ্লিষ্ট দুটি মামলা রয়েছে তার নামে। মামলাগুলো সাজানো। এর বাইরে তার নামে আর কোনো মামলা নেই।

Leave a Reply