স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা হরিণতারা। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনের বাস এই গ্রামে। সবাই নিম্ন আয়ের। জীবিকা চলে কৃষি শ্রমিক হিসেবে অন্যের খেতে কাজ করে।

কয়েকদিন ধরেই শীত বাড়ছে বরেন্দ্রের এ তল্লাটে। হরিণতারার বাসিন্দাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল শীত নিবারণের চিন্তা। কিন্তু শীতের শুরুতেই উষ্ণতা নিয়ে হরিণতারায় পৌঁছেছে প্রজন্ম-৯২।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) এই গ্রামের ৮০ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের ১৯৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটি।

শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি এই গ্রামের বাসিন্দারা। এদেরই একজন বুলবুলি হাসদা। তিনি বলেন, এই গ্রামটি ইউনিয়নের একেবারেই প্রান্তের। কখনোই তাদের খোঁজ নেননা কেউ। সরকারী কোনো সহায়তাও পাননা তারা। কম্বল হাতে পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানান এই সংখ্যালঘু গৃহবধূ।

চোখে মুখে খুশির ঝিলিত গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সুবল হাসদারও। তিনি জানান, কয়েক পুরুষ ধরে তারা এই গ্রামে বাস করছেন। কিন্তু এই গ্রামের খুব কম মানুষ সরকারী সাহায্য সহায়তা পেয়েছেন। কম্বল পেয়ে তাদের বড় উপকার হলো।

প্রজন্ম-৯২ এর সদস্য পত্নীতলার নজিপুর সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর কবির। তিনিই বন্ধুদের শীতবস্ত্র নিয়ে হরিণতারায় গিয়েছিলেন।

কম্বল নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানোর কারণ জানিয়ে আলমগীর কবির বলেন, যারা বিভিন্ন সময় ত্রাণ সহায়তা দেন, তারা সবসময় রাস্তার ধারে বসবাসকারী লোকজনকে দিয়ে যান।

রাস্তাঘাট না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যাওয়া যায়না। সেখানকার লোকজন বরাবরই সহায়তা বঞ্চিত থাকেন। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রজন্ম-৯২ প্রত্যন্ত এই এলাকাটিতে পৌঁছেছে।

শীতবস্ত্র বিতরণে এসছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সিনিয়র ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ। তিনিও প্রজন্ম ৯২ সদস্য।

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণে।ডর মাধ্যমে  বন্ধুত্ব অটুট রাখা। এই কাজ করতে গিয়ে আমরা এ বছর প্রত্যন্ত এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছি। এমন এলাকায় আসার বড় উদ্দেশ্য-যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে পৌছে দেয়া।

আমরা সেটি করতে পেরেছে। যারা শীতবস্ত্র পেলেন, তাদের মুখের হাসি আমাদের আমাদের তৃষ্টি এনে দিয়েছে। এ জন্যই আমরা এতোদূর এসেছি।

প্রজন্ম-৯২ সভাপতি তোহিদ উদ্দীন বিদ্যুৎ জানান, আমরা বন্ধুরা ২০০৭ সাল থেকে এমন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এরমধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ একটি। এই শীতে আমাদের ৩০০ শীত বস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যায়ক্রমে যাদের এসব প্রয়োজন, খুঁজে খুঁজে তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এসময় শীতে বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।

এদিকে, বিকেলে প্রজন্ম-৯২ এর আরেক সদস্য ডা. রাকিবুজ্জামান চৌধুরী সৈকতের তত্ত্বাবধানে  উপজেলার খিরসিন এলাকাতেও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে প্রজন্ম-৯২। 

এই দুই অনুষ্ঠানে অংশ নেন-প্রজন্ম-৯২ সহসভাপতি এএইচএম রায়হানুজ্জামান রোকেন, সাধারণ সম্পাদক হাসান আব্দুল্লাহ বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক রনি মোঃ নাজমুল হক, কোষাধ্যক্ষ এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডিএম আশিকুজ্জামানসহ প্রজন্ম-৯২ এর অন্যান্য বন্ধুরা।

Leave a Reply