চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোমস্তাপুর:”ওই ফুল ফোটে বনে,যাই মধু আহরণে,দাড়াবার সময় তো নাই”এই বাক্যটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। তাই মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে ৩কিলোমিটার পারি দিয়ে বক্সে এসে মধু জমাচ্ছে।

এমনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সরিষা ফুলের মধু বিক্রি করে মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ‌াধিক টাকা আয় করছেন মৌচাষী মনিরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১০ সাল‌ থেকে মৌচাষ করে আসছেন তিনি।

মৌমাছিতে টইটম্বুর প্রতিটি বাক্স। বাক্সগুলো থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ভোঁ ভোঁ শব্দ তুলে ঢুঁ মারতেছে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে বাক্সে। বাক্সগুলোর ওপরের অংশটা মোড়ানো কালো রঙের পলিথিন ও চট দিয়ে।

মৌচাষী মনিরুল ইসলাম বলেন,আমি দীর্ঘ ১২বছর ধরে মৌচাষ করে আসছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫টি উপজেলায় মৌচাষ করি। এখন গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দায়েমপুর গ্ৰামে,নাচোল উপজেলার নাচোল ইউনিয়নের মুর্শীদা মাঠে ও শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের জামতলা মাঠে মৌচাষ করছি।

সরিষার মধু নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সংগ্রহ করছি। সরিষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩৪দিনে ১২৫টি বক্স থেকে ৩০মণ মধু বিক্রি করেছি। পাইকারি বাজারে ১২ হাজার টাকা মণ, খুচরা বাজারে ৪০০-৫০০টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।

তিনি আরো বলেন, মধু চাষ করতে অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। মৌমাছি তিন ধরনের হয়, পুরুষ,স্ত্রী ও শ্রমিক মৌমাছি। শ্রমিক মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বক্সে নিয়ে আসে। শ্রমিক মৌমাছি প্রজনন ক্ষেত্রেও অনেক ভূমিকা রাখে।

একটি বাক্সে ৩০থেকে ৪০হাজার মৌমাছি আছে।বাক্সগুলোর ভেতরে কাঠের তৈরি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো এক ধরনের সিএফ সিট বিশেষ কায়দায় লাগানো। সেগুলো সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। সামনে ফ্রেব্রয়ারি মাস পর্যন্ত সরিষা ফুলের মধু পাবো বলে আসা করছি।

এখন পর্যন্ত তিন উপজেলায় ২৫০টি বক্স রয়েছে। তা থেকে মাসে গড়ে ৭৫ মন মধু সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি। সরিষা ফুলের মধু ছাড়াও আমি কালোজিরা, লিচুর ফুল ও ধনার মধু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করি। আরো একটি মজার বিষয় হচ্ছে মরা মৌচাছী ৩হাজার টাকা করে শুকিয়ে বিক্রি করি। শুকনো মৌমাছির বিষ থেকে অনেক মূল্যবান ওষুধ তৈরি হয়।

মৌচাষী মনিরুল ইসলাম এর প্রজেক্টের রক্ষণাবেক্ষণকারী মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, মনিরুল ভাইয়ের সাথে চলাফেরা করে আমি মৌচাষ করার অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। মনিরুল ভাই অনেক পরিশ্রমী,সে অনেক কষ্ট করে তিল তিল‌ করে এই প্রজেক্ট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ২হাজার ১৭০হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ অর্জিত হয়েছে। গতবারের থেকে এবার সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বেশি অর্জিত হয়েছে। বেশী ফলন হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী গোমস্তাপুরে মেসার্স মমতা মৌ ভান্ডার নামে মোঃ মনিরুল ইসলাম মৌচাষী আছে।

Leave a Reply