বাশেঁর বেড়ায় ২১ দিন অবরুদ্ধ ৩ পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, মহাদেবপুর: নওগাঁর মহাদেবপুরে বাঁশের বেড়া দিয়ে ২১ দিন ধরে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জমির দখল নিতে  উপজেলার চাঁন্দাশ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লী লাউডাঙ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

তিন সপ্তাহ ধরে তিনটি পরিবার প্রায় অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দরজা ঘেঁষে বেড়া দেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার বলেন, ১৯৮৫ সালের বন্যার পর তার নিজ জমিতে বাড়ি তৈরি করে দুই ছেলের পরিবারসহ তিনটি পরিবার বসবাস করে আসছেন।

বাড়ির উঠানের পাশে তার লাগানো বাঁশ বাগানও আছে। কিছুদিন আগে তার প্রতিবেশী আজাহার আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম উঠানের জমি নিজের দাবি করে মহাদেবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ আব্দুল জব্বারকে ডেকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন। কিন্তু তিন সপ্তাহ আগে তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিপক্ষরা বাঁশের বেড়া দিয়ে উঠানের জমি ঘিরে নেয়।

এর প্রতিকার চেয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে গ্রামের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে ধর্না দিচ্ছেন তারা। এরপরেও কেউ তার দরজা খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেননি। তার ছেলে মিরাজুল ইসলাম বলেন, উঠান ঘিরে রাখায় সেখানে রাখা তার শ্যালো মেশিনচালিত ভুটভুটি বের করতে পারছেন না।

বেড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে প্রতিপক্ষ ফরিদা বেগম দম্ভ করে বলেন, দরজা বন্ধ করে ঠিক কাজটিই করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি এই বেঁড়া দিয়েছেন বলেও জানান।

তিনি জানান, বেশ কয়েকবছর ধরে আব্দুল জব্বার ওই দু’টি দরজা ব্যবহার করছেন এবং মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছেন। যেকোনো স্থাপনা করতে কয়েক ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয় এমন কথা তিনি মানেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পরিমল কুমার ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদান নবী রিপন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বার বার অনুরোধ করেও বেড়া সরাতে ফরিদা বেগমকে রাজি করাতে পারেননি।

মহাদেবপুর থানার এএসআই মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা বেগম তার জমির দখল পেতে মহাদেবপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। এরপর জমি পরিমাপ করা হয়, কিন্তু তাকে বেঁড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়নি। বরং দু’দিন আগে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়া সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

Leave a Reply