ঝড়ো-শিলাবৃষ্টির আভাস, আসছে ফের শৈত্যপ্রবাহ

প্রিয় দেশ ডেস্ক: পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং এর আশেপাশের উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা তিন দিন ধরে মাঝারি পর্যায়ের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়াও ছিল। আগামীকালও (শনিবার) বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এরপর আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে।

তবে এই বৃষ্টি দেশের পশ্চিম-উত্তরাঞ্চল থেকে সরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলে যেতে পারে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজধানীর আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকতে পারে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া, হামলা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাসের শেষ দিকে দেশের কোথাও কোথাও ১ থেকে ২ দিন শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মলি­ক বলেন, এই বৃষ্টিপাতের মূল কারণ পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং দেশের ভেতরে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘপুঞ্জ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। সেগুলো আগে থেকে দেশের ভেতরে থাকা গুচ্ছ মেঘপুঞ্জের সম্মিলনে বজ্রমেঘের সৃষ্টি করে। এর ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। প্রথমে হালকা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা মাঝারি আকার ধারণ করে। এই বৃষ্টি কালও (শনিবার) চলতে পারে। এরপরে তিন-চারদিনের আরেক দফা শীত নামবে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কোনো কোনো স্থানে তা শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চগড়, বদলগাছি, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, যশোর, মাদারীপুর ও ঢাকায় মাঝারি আকারের বর্ষণ হয়। পরিস্থিতি এমন যে, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ঢাকায় শুক্রবার সকাল থেকে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। তা অস্থায়ীভাবে দমকা হিসেবে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। 

সংস্থাটি আরও জানায়, এই মেঘ ক্রমান্বয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে চলে যেতে পারে। তেমনটি হলে শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই মেঘ-মেদুর পরিস্থিতি কালই (শনিবার) শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে কয়েকদিন কুয়াশার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএমডি জানায়, শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Leave a Reply