বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, নিজস্ব সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। গতকাল সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগর ভবনের গ্রীণ প্লাজায় ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কালচারাল মিট আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভায়’ এই মন্তব্য করেন তিনি।


প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, সামাজিক বন্ধন না থাকলে সম্পর্ক সুখের হয় না। তাই ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অত্যন্ত কাছের একটি দেশ। দুই দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে অনেক মিল রয়েছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার আরও বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের শিল্পীরা গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছেন। পঞ্চম বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কালচারাল মিট নতুন করে সাংস্কৃতিক বন্ধনকে জাগিয়ে তুলবে। তিনি বলেন, এক সময় ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে।


বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কালচারাল মিট এর মাধ্যমে দুই দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ জানান খাদ্যমন্ত্রী।


আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তালুকদারসহ রাজশাহী বিভাগের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। জুনাইদ আহমদ পলক বক্তৃতায় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কালচারাল মিটের রাজশাহী-নাটোর অংশের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।


প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কালচারাল মিট হল দুই দেশের জনগণের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততার একটা জায়গা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ ঘটে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য এ ধরনের কালচারাল অনুষ্ঠান আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প মুছে ফেলতে হবে।

এসময় বক্তারা বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশের জনগণের সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার আহবান জানিয়ে বলেন, দুই দেশের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে হবে। সংস্কৃতিকে অস্ত্র করে দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।


সভাপতির ভাষণে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের মৈত্রী চিরঞ্জীব রাখার জন্য আমাদের এই আয়োজন। পূর্বেও এ ধরনের আয়োজন কয়েকবার হয়েছে, সৌভাগ্যবশত এবার রাজশাহীতে হতে যাচ্ছে। আশা করি আমরা সফলতার সাথে এটি করতে সমর্থ হব। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।


রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কালচারাল মিট, রাজশাহী ২০২২’ অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশে আসবেন। এবার ভারতের ৪ জন প্রাদেশিক মন্ত্রী, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ৬০ জনের একটি প্রতিনিধিদল কালচারাল মিটে অংশ নেবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি সিএন্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এবারের উৎসব শুরু হবে। এদিন রাসিক মেয়রের পক্ষ থেকে ভারতীয় অতিথিদের নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। একই দিন বিকেলে উভয় দেশের অংশগ্রহণে রাজশাহী কলেজ মাঠে মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

২৭ ফেব্রুয়ারি বরেন্দ্র জাদুঘর, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, পুঠিয়া রাজবাড়ি, বাঘা মসজিদ, নাটোর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন ইত্যাদি স্থাপনা পরিদর্শন শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন।

Leave a Reply