কসমেটিকস পছন্দ না হওয়ায় আত্মহত্যা নববধূর 

প্রিয় দেশ ডেস্ক: প্রতিবেশী তরুণ ও কিশোরীর গোপন প্রেমের সম্পর্ক জেনে ফেলায় প্রাণ গেছে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৯ বছরের শিশু তাকলিমা আক্তারের। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 ওই শিশু হত্যার প্রায় ৬ মাস পর এর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ওই হত্যার তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার।

পিবিআই হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মো. আল মামুন শিকদার বলেন, নিহত শিশু তাকলিমা আক্তার মাধবপুর উপজেলার আইলাবই গ্রামের মো. সাগর আলী ও সেলিনা বেগমের মেয়ে।

শিশুটিকে তার পরিবার গত বছরের ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টায় বাড়ির পাশে একটি মুদির দোকানে নুডলস আনতে পাঠায়। কিন্তু মেয়েটি আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা নানা স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটিকে পাননি। পরে এ ঘটনায় শিশুর মা সেলিনা বেগম মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এ ঘটনার চার দিন পর গত বছরের ২৫ জুলাই আইলাবই গ্রামের দুই নারী গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের ভেতরে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে শিশু তাকলিমার অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা এ খবর শিশুটির পরিবারকে জানালে মা সেলিনা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. সাগর আলী অজ্ঞাতনামা আসামি করে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জ পিবিআই। পিবিআই মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে। নিহত শিশুর প্রতিবেশী খাদিজা আক্তার (২৭), তাঁর মা আমেনা খাতুন (৫০) এবং একই উপজেলার গন্ধব্যপুর গ্রামের বাহার উদ্দিনকে (২১) এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে খাদিজা ও বাহার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার আমেনা খাতুনের ছেলে ও খাদিজা আক্তারের ছোট ভাই তাকবীর হাসান (২০) তাঁদের প্রতিবেশী এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমিক যুগলকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলে শিশু তাকলিমা। বিষয়টি ওই কিশোরীর মাকে জানিয়ে দেয় শিশুটি। পরে তরুণ ও কিশোরীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এ নিয়ে তাকবীর ক্ষুব্ধ ছিলেন শিশুটির ওপর।

২১ জুলাই সকালে তাকবীর শিশু তাকলিমাকে রাস্তায় একা পেয়ে চকলেট দেবেন বলে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে তিনি লাশটি বড় বোন খাদিজা আক্তার ও মা আমিনা আক্তারের সহযোগিতায় বস্তাবন্দী করে সুবিধাজনক সময়ে বাইরে নিয়ে ফেলার জন্য তাঁদের বাড়ির গোয়ালঘরে রাখেন। ২-৩ দিন পার হওয়ায় লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে তাকবীর তাঁর বন্ধু বাহার উদ্দিনের সহায়তায় লাশটি গ্রামের বাঁশঝাড়ের কাছে নিয়ে ফেলে রাখেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার বলেন, মূলত তাকবীর ও কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক জেনে ফেলায় এবং পরিবারকে বলে দেওয়ায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা জেলা কারাগারে আছেন। প্রধান আসামি তাকবীর হাসান পলাতক।

Leave a Reply