নির্যাতিতা নারীদের মর্যাদা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে নারীদের মর্যাদা দান করে প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যদানকালে এই মন্তব্য করেন তিনি। দুপুরের দিকে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের। তাতে ভার্চুয়ালি অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়ে সম্মানীয় আসনে অধিষ্ঠিত করেন বঙ্গবন্ধু। তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পুর্নবাসন বোর্ড গঠন করেন। বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে নির্যাতিতাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে সমাজ ও পরিবারে আলোকিত জীবন দান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি ও সমবায়সহ নারীদের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভূক্ত করেন জাতির পিতা। চাকুরি ক্ষেত্রে নারীদের ১০ শতাংশ কোটা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। শহিদ পরিবারের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেন। শহিদ পরিবারের কন্যাদের জন্য বিনামূল্যে পড়াশুনার ব্যবস্থাও করেন তিনি। এ সমস্ত কাজের পিছনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার অবদানও অপরিসীম।

তিনি আরও বলেন,, জাতির পিতার পথ ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সমাজে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। নারীর দক্ষতা ও  সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি  এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে নারীর ক্ষমতানের জন্য তিনি জয়িতা ফাউন্ডেশন তৈরি করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৯০ লক্ষ নারীকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে ভাতা, খাদ্যসহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এ সময় তিনি বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতনসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বন্ধ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহŸান জানান। একই সাথে নির্বাচিত জয়িতাদের সমাজের নির্যাতিতদের জয়িতা হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.  আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাজসেবী শাহিন আক্তার রেনী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি টিএম মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সুজায়েত ইসলাম ও জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

ওই অনুষ্ঠানে  অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে সিরাজগঞ্জের সানজিদা আক্তার শিমু, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে রাজশাহীর ড. হোসনে আরা আরজু, সফল জননী নারী হিসেবে বগুড়ার বুলবুলি রাণী বর্মন, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নব উদ্যমী নারী হিসেবে বগুড়ার ফৌজিয়া হক বীথি ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাবনার কামরুন নাহার শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা নেন। এর আগে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতার জীবন সংগ্রামের উপর ধারণকৃত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

এ বছর রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট দশ জন নারী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। এদের মধ্য থেকে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে একজন করে মোট পাঁচজনকে চূড়ান্তভাবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচন করে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটি।

Leave a Reply