বসতভিটা দখলে নিতে বাড়িঘর গুড়িয়ে আগুন

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ভিটেমাটি দখল নিতে বসত বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে তাতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বসন্তপুরে দফায় দফায় এই তাণ্ডব চলে।

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী জালাল উদ্দিনসহ তার ছেলেদের পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে বিলাপ করছিলেন সত্তরোর্ধ জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি এখন কোথায় যাবেন? কার কাছেই বা বিচার দেবেন?

জালাল উদ্দিন জানান, রোববার সকালে শ খানেক মানুষ এসে তার ও ছেলেদের ১১টি আধাপাকা ও টিনের ঘরে গুঁড়িয়ে দিয়ে তাতে আগুন দেয়। এরপর বুধবার দুপুরে মাটি কাটার যন্ত্র নিয়ে এসে বাকি যা ছিল সেগুলোও তছনছ করে দেয়। সেদিনও আরেক দফা আগুন দেয়।

জালাল উদ্দিনের ছেলে মাহবুর রহমান বলেন, ৩৬ বছর ধরে তারা এ জমির খাজনা পরিশোধ করছেন। এ ঘটনায় থানা মামলা নেয়নি। শেষে  গত ৮ মার্চ আদালতে মামলা হয়েছে।  এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জালাল উদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, ৩৬ বছর ধরে তারা এখানে ছিলেন। এত দিন কেউ জমিজমা নিয়ে কিছু বলেনি। হঠাৎ করে এসেই বলে জমি খালি করতে হবে। ১০টি গরু, ২০টি ছাগল, ধান, চাল, সরিষা, ফ্রিজ এমনকি বাড়ির টিন আর ইটও নিয়ে যায়। এখন আশপাশের মানুষজন যা দিচ্ছে, তাই খেয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

জালাল উদ্দিন ও তার পরিবারের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালে গাহানু সরদারের কাছে ২৪ কাঠা জমি ১২ হাজার টাকায় বায়না করেন জালাল উদ্দিন। তখন গাহানু জমি বিক্রির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে অনুমতির আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গোদাগাড়ী ভূমি কার্যালয়কে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বলা হয়। গাহানু কিছুদিন পর মারা যান। এ কারণে তখন জমির কবলা দলিল করা যায়নি। তখন গাহানুর ছেলে জহুর লাল ও মহর লাল প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না।

পরে জহুর ও মহল প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের কাছ থেকে জমিটি কেনার চেষ্টা করেন। কিন্তু জহুর ও মহর তা মানছিলেন না। ৬ মার্চ সকালে জহুর ও মহর কয়েক শ মানুষ নিয়ে বাড়ি দখল করতে আসে।

তাদের হাতে ছিল লাঠি, ফালা, কুড়াল, কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র। তাঁরা প্রথমে বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে। তখন বাড়ির সদস্যরা ভয়ে অন্য বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।

সেদিন বাড়িঘরগুলো ভেঙে লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার বুধবার দুপুরে ভেকু নিয়ে এসে বাকি যা ছিল সেগুলোও তছনছ করে দেয়া হয়। সেদিনও আরেক দফা আগুন দেয় হামলাকারীররা।

জহুর লালের দাবি, তার বাবা টাকা নিয়ে বায়না করেছিলেন, কিন্তু বিক্রি করেননি। ফলে জমিটা তাদেরই। এ কারণে দখল নেয়ার চেষ্টা করছেন। দখলে গিয়ে কাউকে মারা হয়নি, লুটপাটও করা হয়নি।

এবিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল হাসান জানান, কীভাবে জমির দখল নিয়েছে, এটা তারা জানেন না। আদালতে মামলার বিষয়টাও তার জানা নেই।

Leave a Reply