স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী নগরীতে ভবন নির্মাণের গর্ত করার সময় দেয়াল চাপায় রিয়াজুল ইসলাম (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১২ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর ছোট বনগ্রাম বারো রাস্তার মোড়এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াজুল ইসলাম জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি বলিয়াডাইং এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে। মরদেহ রামেক হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৭ শ্রমিক আহত হয়েছেন। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন নির্মাণ শ্রমিক রাজিব ইসলাম। তিনি জানান, সাইটে দুটি গর্ত খননের কাজ চলিছল। ১৭ জন শ্রমিক দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছিলেন। একটি দল দেয়ালের পাশে গর্ত খনন করছিলেন। ওই দলে তিনিসহ ছিলেন ৬ জন।


রাজিব জানান, দুপুরের খাবার খেয়ে ২টা নাগাদ আবারো তারা কাজে লেগে যান। সোয়া ২টার দিকে বিকট শক্তে পাশের দেয়াল ধসে পসে। দেয়ালের ওপাশে খোয়ার স্তুপ ছিল। সেগুলো গর্তে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় গর্ত থেকে লাফ দিয়ে উঠে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি। পরে নিজ হাতে ‍দুই সহকর্মীর অচেতন দেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় আরো কয়েকজনকে উদ্ধার করেছেন।

তবে ৮ জনকে রামেক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আহত আট শ্রমিককে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরমধ্যে একজন হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যান। আহতরা হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তিনি জানান, নগরীর বারো রাস্তার মোড় সংলগ্ন এন্তাজ আলীর প্লটে ভবনের ভিত্তি নির্মাণের গর্ত খনন করছিলেন ১৭ নির্মাণ শ্রমিক। সেখানে প্রায় ২৫ ফিট লম্বা দেয়াল ছিল। মাটি খননের এক পর্যায়ে দেয়ালটি ধসে পড়ে।

গর্তের মধ্যে ৬ জন নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাৎক্ষনিক স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চার জনকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেয়ার একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

উদ্ধারকাজ চলমান অবস্থায় লেবার সর্দার আব্দুল কুদ্দুস জানান, ১৭ জন শ্রমিকের মধ্যে ১১ জন বাইরে আরেকটি গর্ত খননের কাজ করছিলেন। এই ১১ জন নিরাপদে ছিলেন। বাকি ছয় জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্যদেরও সন্ধান মিলেছে।

সকল শ্রমিকের সন্ধান পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত হই আর কেউ নিখোঁজ নেই। এরপরই বিকেল সোয়া ৩টার দিকে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে রাজশাহী সদর, বিশ্ববিদ্যালয় ও নওহাটা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় ৬০ জন সদস্য উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। গর্তে আর কাউকে না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

ঘটনাস্থলে নগরীর চন্দ্রিমা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান আলী জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply