এক বছরে রাকাবের মুনাফা ৪৪ কোটি

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: এবার হাতের মুঠোয় যাচ্ছে কৃষকের ব্যাংক খ্যাত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। আজ বুধবার (২৩ মার্চ) মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং পরিসেবা চালু করতে যাচ্ছে উত্তরের বিশেষায়িত এই ব্যাংক। এখন থেকে ঘরে বসেই সার্বক্ষনিক ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন গ্রাহক।

রাকাবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ জানিয়েছে, রাকাব ধীরে ধীরে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠছে। এরই অংশ হিসেবে ‘রাকাব ই-ব্যাংকিং’ মোবাইল অ্যাপ আনছে রাকাব। প্লে-স্টোর থেকে এন্ড্রোয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা এই অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন।

এই অ্যাপ থেকেই ঘরে বসে ওয়াসা, নেসকোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা যাবে। নিজস্ব হিসাব থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে বিকাশ, রকেট, নগদ, ট্যাপ এবং উপায় এ। এছাড়া গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক, টেলিটক, রবি ও এয়ারটেলে মোবাইল রিচার্জ সেবাও পাবেন গ্রাহক।

এই অ্যাপ নিকটস্থ শাখার অবস্থান জানাবে গ্রাহকদের। অ্যাপ থেকেই নেয়া যাবে মিনি এমনকি বিস্তারিত হিসাব বিবরণী। লেনদেনের সার্বিক বিবরণীও মিলবে এ অ্যাপেই। ঋণ ও আমানত সংক্রান্ত তথ্য এমনকি ব্যালান্সও জানাবে মোবাইল অ্যাপ।

শুধু তাই নয়, ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ফান্ড টান্সফার, ইএফটিএন, আরটিজিএস এবং এ-চালান কার্যক্রম চলবে। বাংলায় এসএমএস এ গ্রাহক ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন যাবতীয় তথ্য।

ব্যাংকের আইসিটি বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম জানান, একযোগে রাকাবের সকল শাখায় অনলাইন ব্যাংকিং (সিবিএস), আরটিজিএস, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও সয়ংক্রিয় চালান প্রক্রিয়া (এ-চালান) চালু করা হয়েছে।

আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ রাকাবের। এরই অংশ হিসেবে চালু হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং। ফলে রাকাব এখন গ্রাহকের হাতের মুঠোয়। সেবাও মিলবে সবসময়।

রাকাব ই-ব্যাংকিং

প্লে-স্টোর থেকে ‘রাকাব ই-ব্যাংকিং’ অ্যাপ ডাউনলোড করে সেবা নিতে পারবেন গ্রাহক। এ জন্য অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে গ্রাহককে। এর বাইরেও ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে লগ-ইন করেই ব্যাংকিং সেবা নেয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটি ও ডাটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভলনারেবিলিটি এসেসমেন্ট ও পেনিট্রেশন টেস্টিং সম্পন্ন করেছে রাকাব। এরই মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এনডিসি স্থাপন ও কার্যকর করা হয়েছে। 

ফলে সার্বক্ষনিক অনলাইন সেবা নিশ্চিত, রিয়েল-টাইম ডাটা ব্যাকআপ, ডাটা সিকিউরিটি, ডিজাস্টার রিকোভারি এবং দুর্যোগকালীন ব্যাংকিং দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাকাব বদ্ধপরিকর। ডিজিটাল ব্যাংকিং এর মধ্যেমে রাকাব ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাকাবে তাৎক্ষণিক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা (সিবিএস) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মূলত এরপরই রাকাবের দিন বদলের শুরু।

ওই বছরের ২৪ অক্টোবর চালু হয় বিএসিএইচ ও বিইএফটিএন সেবা। গত বছরের ১১ এপ্রিল চালু হয় তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃ ব্যাংক লেনদেন (আরটিজিএস) সেবা। সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি চালু হয় এ-চালান।

যদিও ২০১১ সালে অফলাইন কম্পিউটারাইজড ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিং জগতে পা রাখে রাকাব। এরপর ধাপে ধাপে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। এরইমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে রাকাবের নিজস্ব আধুনিক ও সুরক্ষিত ডাটা সেন্টার। ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে রাকাব।

তিনি আরও বলেন, প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রৃতি ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। প্রথমদিকে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো ডিজিটাল কার্যক্রম চালু করে। পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো ডিজিটাল হতে শুরু কবে। রাকাব একটু বিলম্বে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু হয়। এতে রাকাবের সেবার মান আরেক ধাপ বাড়ল।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগ করেন, গ্রাহক এখন ঘরে বসেই হিসাব খুলতে চান, বিল পরিশোধ করতে চান এমনকি লেনদেনও করতে চান। অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক এসব সেবা এরই মধ্যে চালু করেছে। বিশেষায়িত ব্যাংক হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকিং পরিচালনার যাবতীয় অনুমোদন আছে রাকাবের। ধীরে ধীরে আমরা সে দিকেই যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন থেকে সার্বক্ষনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

প্রসঙ্গত, কৃষির উন্নয়নে ঋণ সহায়তা নিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে ১৯৮৭ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে যাত্রা করে রাকাব। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় ৩৮৩ টি শাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে রাকাব।

এরমধ্যে ৩৩৩ টি শাখা একেবারেই কৃষকের বাড়ির কাছে, প্রত্যন্ত এলাকায়। শহর এলাকায় রয়েছে ব্যাংকের বাকি ৫০টি শাখা। কিন্তু নানা কারণে পিছিয়ে পড়ে ছিল কৃষকের এ ব্যাংক। তবে গত দুই বছরে বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট।

Leave a Reply