স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ধানখেতে সেচের পানি না পেয়ে দুই কৃষকের আত্মহননের ঘটনা তদন্তে নেমেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সরেজমিন তদন্তে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) গোদাগাড়ীর ঈশ্বরীপুর এলাকায় গেছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ধানখেতে পানি না পেয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিনাথ মার্ডি (৩০) নামের এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেওপাড়া ইউনিয়নের নবাই বটতলা নিমঘুটু এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান ওই কৃষক।

অভিনাথ মার্ডি নবাই বটতলা নিমঘুটু গ্রামের বাবু চাঁদ মার্ডির ছেলে। তার সাথে বিষপান করেন আরেক কৃষক  রবি মার্ডি (৩০)। রবি একই এলাকার মঙ্গল মার্ডির ছেলে। সম্পর্কে অভিনাথ ও রবি চাচাতো ভাই।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় রবিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি নেন স্বজনরা। বর্তমানে হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি তিনি।

জানা গেছে, ধানখেতে পানি না পেয়ে ক্ষোভে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিষপান করেন এই দুই ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর কৃষক। গভীর নলকূপের অপারেটর তাদেরই এক চাচাতো ভাইয়ের ভ্যানে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেওপাড়ার ঈশ্বরীপুর ব্লাকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপের সেচের আওতায়  ধানচাষ করেন কৃষক অভিনাথ ও রবি।

চলমান খরায় ধানখেত ফেটে চৌচির। কিন্তু গভীর নলকূপের অপারেটর শাখাওয়াত হোসেন সেচের পানি দিতে তালবাহান করছিলেন। সিরিয়ালের নামে প্রায় দুসপ্তা ধরে তাদের ঘুরাচ্ছিলেন অপারেটর। সেচ ক্ষমতার অতিরিক্ত জমিতে ধানচাষ হওয়ায় ফসল বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা।

খেতের ফসল রক্ষায় বুধবার ফের অপারেটরের কাছে যান অভিনাথ ও রবি। কিন্তু অপারেটর আবারো সিরিয়ালের নামে তাদের ফিরিয়ে দেন।

 ক্ষোভে সেখানেই বিষপান করেন দুই কৃষক। পরে তাদের ভ্যানে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন অপারেটর। বাড়ি ফিরে গিয়ে রাতে মারা যান অভিনাথ। অসুস্থ রবিকে হাসপাতালে নেন স্বজনরা।

গভীর নলকূপ অপারেটন শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, গত মঙ্গলবার (২২ মার্চ) তাদের খেতে পানি দেয়া হয়েছে। ইশ্বরীপুরে বিএমডিএর ২নং ডিপ টিউবওয়েলের অধীনে ২৬৫ বিঘা জমি এবার ধান চাষের আওতায় এসেছে। কোথাও পানির সংকট নেই বলে দাবি করেন অপারেটর।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১ এর সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান। তিনি জানান, তারা স্বপ্রণোদিত হয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে  ২৬৫ বিঘা নয়, সেখানে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে ধানচাষ হয়েছে। কোথাও পানি সংকট নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানে আলম। তিনি জানান, এমন খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে কি কারণে ওই দুই কৃষক বিষপান করলেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তারাই এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেবে।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানানও সি।

Leave a Reply