শেখ হাসিনার যাদুকরি নেতৃত্বে বদলে গেছে দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শেখ হাসিনার যাদুকরি নেতৃত্বে বদলে গেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি। গুরুদাসপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহ্মুদ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বহুদূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীর সামনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজকে আকাশ থেকে কুঁড়েঘর দেখা যায় না, খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না।

‘মা আমাকে একটু বাসি ভাত দেন’Ñ এখন আর একথা শুনা যায় না। এখন তালি দিয়ে লুঙ্গি পরা মানুষ দেখা যায় নাÑ এটি বাস্তবতা। এটাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাদুকরি নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ছাত্ররাজনীতি করতাম তখন কমিউনিষ্ট ভাইয়েরা শ্লোগান দিত, শ্রমিকের মজুরি হতে হবে সাড়ে তিন কেজি চালের সমান। আমাদের নেত্রী শ্রমিকের মজুরি ১৫ কেজি চালের সমান বানিয়ে দিয়েছেন। আজকে ১ কোটি মানুষকে শেখ হাসিনা ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার জন্য, দেশের পঞ্চাশ লাখ মানুষকে পনের টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ২০০৮ সালে শ্লোগান দিয়েছিলাম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। যখন শ্লোগান দিলাম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তখন বিএনপি আমাদের টিটকিরি মারলো আর বুদ্ধিজীবীরা বললো, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এটি আবার কি? এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তবতা।

২০১৮ সালে আমরা শ্লোগান দিলাম, ‘আমার গ্রাম আমার শহর”। তার মানে গ্রামে শহরের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আমরা পৌঁছে দেব। এখন গ্রামগুলোতে শহরের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে গেছে। আমার গ্রাম আমার শহর হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আজকে দেশের যে অগ্রগতি সেখান থেকে বিএনপি ২০/৩০ বছর পেছনে নিয়ে যেতে চায়। তারা দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। আমরা শ্লোগান দিইÑ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ আর বিএনপি শ্লোগান দেয়Ñ ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। যারা দেশকে পেছনে নিতে চায়, এ দেশের ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দেয়া যায় না।

বাঙালির সব অর্জনের সাথে আওয়ামী লীগের নাম জড়িয়ে আছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুুদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে যে সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই সরকারের অধীনেই সেক্টরগুলো গঠিত হয়েছিল।

সেই সরকারের অধীনেই সেক্টর কমান্ডাররা চাকুরি করত। জিয়াউর রহমানসহ সমস্ত সেক্টর কমান্ডাররা মুক্তিযুুদ্ধকালীন সরকারের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল এবং তারা মুক্তিযুদ্ধকালে সেই সরকারের কাছ হতে মাসে চারশত টাকা করে বেতন পেত।

দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা বর্ণনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশকে পাকিস্তানিরা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল, ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল, কোটি মানুষ ভারতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল, এক কোটি মানুষ দেশের মধ্যে আশ্রয়হীন হয়েছিল। সবাইকে বঙ্গবন্ধু আবার ঘরে ফিরিয়ে এনেছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু সরকারের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৫৪ শতাংশ। সেই মাইল ফলক এখনও আমরা ছুঁতে পারি নাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি; কিন্তু নয় কিংবা নয় দশমিক পাঁচ শতাংশ করতে পারি নাই। বঙ্গবন্ধুকে যে বছর হত্যা করা হয় সে বছর দশ হাজার মে. টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পৃথিবীর কোনো সরকার একশত ভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারেনি ও পারবে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, আমরা চৌদ্দ বছর ক্ষমতায় আছি। আমাদেরও ভুল-ক্রুটি আছে। আমরা সেই ভুলত্রুটিগুলোকে সংশোধন করে ভবিষ্যতে আরও সুন্দরভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা করব।

গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিসুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-৪ আসনের (গুরুদাসপুর ও বড়াই গ্রাম) সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ অধ্যাপক মো: আব্দুল কুদ্দুুস, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা বক্তৃতা করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান। সম্মেলনে রাজশাহী বিভাগের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply