আগে নদী-খাল নিয়ে রাজনীতি হয়েছে, এখন হচ্ছে খনন

স্টাফ রিপোর্টার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নদী-খাল খনন নিয়ে আগে কাজ হয়নি। বরং রাজনীতি হয়েছে। এখন খননে আমরা নদীগুলোর নাব্যতা পাচ্ছি, প্রচুর মাছও পাচ্ছি। এতে সামগ্রিক উন্নয়ন হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাজশাহীতে ‘আত্রাই, ইছামতি, বড়াল, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্পের বিভাগীয় কর্মশালায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরের দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই কর্মশালা আয়োজন করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ৪৮টি নদী সমীক্ষা প্রকল্প ও রাজশাহী বিভাগীয় নদী রক্ষা কমিটি। তাতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে আমাদের দেশে নদী নিয়ে তেমন কোনো আলোচনাই ছিল না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেনÑ নদীর নাব্যতা কমে গেছে, ফিরিয়ে আনতে হবে। বঙ্গবন্ধুই ১৯৭৪ সালে নদীর নাব্যতা বাড়াতে আটটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই সংখ্যাটা ৯-এ পৌঁছায় নাই। আর এখন আমাদের ড্রেজার সংখ্যা আশিটি। এগুলো দৃশ্যমান না। তাই এ ধরনের উন্নয়নগুলো কেউ দেখতে পায় না।

নদ-নদীগুলো মানবদেহের শিরা-উপশিরার মতো উল্লেখ করে খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেন, একজন মানুষকে সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকতে হলে যেমন শিরা-উপশিরায় রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন, তেমনি একটি দেশের বাঁচার জন্য দূষণমুক্ত ও নাব্য নদ-নদী দরকার।

নদীকে রক্ষা করতে না পারলে দেশকে বাঁচানো যাবে না। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ তাই আমাদের দেশের নদ-নদী, নালা, খাল-বিল রক্ষা করতে হবে। এগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

নদীগুলোকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীগুলোকে রক্ষা করতে নৌপরিবহন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কাজ করছে। আমরা চাই নদী রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুক। এ জন্য জনসচেতনতা দরকার।

শেখ হাসিনার সরকারের কাজের মধ্যদিয়েই দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে বাংলাদেশে নদী দিবস পালন হতো নাÑ শেখ হাসিনার সরকার এটা শুরু করেছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।

আগে অনেকে ঠিক মতো হাত না ধুয়েই খেতে বসতো আর এখন স্কুলের ছেলে-মেয়েরাও হাত না ধুয়ে কিছু খায় নাÑ শেখ হাসিনার সরকার এই জনসচেতনতা তৈরি করেছে, ঠিক একইভাবে ধীরে ধীরে এক সময় নদী রক্ষা কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।

আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিলসহ অন্যান্য জলাভূমির সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রধানমন্ত্রী বদ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ শহিদের দায় আমাদের আছে। সেই দায় নিয়েই কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তাই নদীমাতৃক দেশকে বাঁচাতে হবে, নদীর জায়গা নদীকে ছেড়ে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নদীগুলো আমাদের গেরিলাযুদ্ধের অংশ ছিল। নদীমাতৃক দেশ হওয়ার কারণেই আমরা পাকিস্তানকে সহজে যুদ্ধে পরাজিত করতে পেরেছিলাম বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালার শুরুতে ৪৮টি নদী সমীক্ষা প্রকল্পের এনভায়রনমেন্ট এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ স্পেশালিস্ট মোঃ মনির হোসেন চৌধুরী দেশের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীতে তুলে ধরেন।

পরে তিনি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে আত্রাই, ইছামতি, বড়াল, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর উৎপত্তি ও পতিতস্থল, দৈর্ঘ্য, গতিপথ, তীরবর্তী স্থাপনা, দূষণ উৎস, ভাঙন সংখ্যা ও পরিমাণ, নাব্যতার ধরন, নদীগুলোর সঙ্গে সংযোগনদী, উপনদী, শাখানদী, খাল ও বিলের তথ্য এবং নদী রক্ষায় করণীয় উপস্থাপন করেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জিএসএম জাফরউল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল বাতেন, আরএমপি’র কমিশনার মো: আবু কালাম সিদ্দিক, ৪৮টি নদী সমীক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ইকরামুল হক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম।

কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের জেলা প্রশাসকগণ, উপজেলা চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ অংশ নেন।

Leave a Reply