সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে কঠোর ভূমিকায় বিনিয়োগ বান্ধব দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতি জিরো টলারেন্সের ভূমিকার কারণে দেশ এখন বিনিয়োগ বান্ধব। বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজশাহীতে মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরের দিকে  রাজশাহীর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই সমাবেশ আয়োজন করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম । তাতে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কারণে আমরা সকলের সহায়তায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। স্বপ্ন দেখি ২০৪১ সালের মধ্য উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হব।

আইজিপি বলেন, দেশে এখন জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে মাদকের ব্যাপারে স্বস্তি ফেরেনি। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ মানুষ আইন মানে না। মাদকসহ অন্যান্য অপরাধে তারা জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে যত কঠিন হওয়া যায়, পুলিশ তার চেয়েও কঠিন হবে। মাদক কীভাবে দমন করতে হয়, তা পুলিশের জানা আছে। এসময় মাদক ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানান পুলিশ প্রধান।

আগুন-সন্ত্রাস প্রতিরোধে কঠোর হুশিয়ারি দেন আইজিপি। তিনি বলেন, জীবন বাজি রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ এনে দিয়েছেন। এ দেশে আবার যদি কেউ আগুন–সন্ত্রাসের চেষ্টা করে, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সেই অপপ্রয়াস রুখে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশকে সন্ত্রাসের রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ গণতন্ত্রের ধারাকে রক্ষা করেছে। মহানগরীর প্রতিটা থানায় জনগণ যাতে পুলিশি সেবা পায় সেই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। এ বিষয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং-এর মাধ্যমেও জনগণ এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করছে আরএমপি। যার ফলশ্রুততে রাজশাহী নগরীতে মাদক অনেকাংশ কমে গেছে।

পুলিশ সদস্যদের মাদক কানেশন ইস্যুতে কঠোর হুশিয়ারি দেন পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, এখন পুলিশের চাকরিপ্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে পুলিশে তাঁর চাকরি হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সব চাকরির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করা হবে। অনেক সময় পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের ব্যাপারেও তথ্য আসে। সেই রকম তথ্য আমাদের কাছে এলে আমরা তাকেও ছাড় দেব না।

মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবি উপাচার্য ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার,  কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের নগর আহবায়ক প্রফেসর ড. মো: আব্দুল খালেক, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ্ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, র‌্যাব-৫ অধিনায়ক লে. কর্ণেল রিয়াজ শাহরিয়ার, জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল প্রমুখ।

Leave a Reply