ফাঁকা স্ট্যাম্পকে বায়না দলিল বানিয়ে আদালতে ধরা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ফাঁকা স্ট্যাম্পকে বায়না দলিল বানিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) নামের এক ব্যক্তির এক মাসের কারাদণ্ড হয়েছে।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাজশাহীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মারুফ আল্লাম এই আদেশ দেন। দণ্ডিত আবু বক্কর সিদ্দিক জেলার পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া গ্রামের সামছুদ্দিন সরকারের ছেলে।

রায় ঘোষণাকালে আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। পরে তাকে আদালত পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। তবে আপীলের শর্তে বিকেলে স্থানীয় কাউন্সিলররের জিম্মায় জামিন পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করতে এসে ফাঁসলেন বাদী

২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল পুঠিয়া থানায় প্রতারণার মামলা করেন আবু বক্কর সিদ্দিক। মামলায় আসামী করেন- একই উপজেলার কামার ধাদাস এলাকার বাসিন্দা হাজেরা খাতুন (৪৫), তার স্বামী হযরত আলী (৫০), ভাই আব্বাস মোল্লা (৪০) এবং ছেলে আল আমীনকে (২৫)।

আদালত চার আসামিকেই খালাস দিয়েছেন। একই সাথে বাদীকে প্রত্যেক আসামীকে ১ হাজার টাকা করে ক্ষতিপুরণ দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজশাহীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বেঞ্চ সহকারী নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আসামি হাজেরা খাতুন মূলত আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে জমি বন্ধক রেখেছিলেন।

আরও পড়ুন: ভুয়া মৃত্যুসনদ ইস্যু, চেয়ারম্যান-মেম্বরের নামে মামলা

কয়েক বছর পরে বন্ধকি জমির উপর অতিরিক্ত কিছু টাকাও নিয়েছিলেন। ওই সময় ফাঁকা স্ট্যাম্প দিতে বাধ্য হন। আবু বক্করের আশা ছিল, হাজেরা এক সময় ওই জমি তার কাছেই বিক্রি করে দেবেন। কিন্তু পরে বেশি দাম পাওয়ায় হাজেরা ওই জমি জনৈক সাজেদুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন।

সাজেদুর রহমান জমি কেনার আগে হাজেরার সব ঋণ আবু বক্করকে পরিশোধও করে দেন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আবু বক্কর। তিনি হাজেরার কাছ থেকে নেয়া ফাঁকা স্ট্যাম্পকে বায়নানামায় পরিণত করেন।

এরপর ওই দলিল দেখিয়ে হাজেরা, তার স্বামী, ভাই ও ছেলেকে আসামী করে প্রতারণার মামলা দেন। পরে আদালতে দলিলটির নানান অসঙ্গিতি ধরা পড়ে। মামলাটিতে আবু বক্করের পক্ষে তার চার ভাই আদালতে সাক্ষ্যদেন।

আরও পড়ুন: বাগমারায় জব্দ ২৫৭৯৪ লিটার তেল খোলা বাজারে বিক্রির নির্দেশ

তারা স্বীকার করেন- বায়নার নামে বাদী-আসামির মধ্যে কোনো টাকা-পয়সাই লেনদেন হয়নি। উল্টো হাজেরা জমির ওপর যত টাকা নিয়েছিলেন তা পরিশোধ হয়ে গেছে বলে জানান।

বেঞ্চ সহকারী আরও বলেন, বিচার শেষে আদালতের কাছে বাদীর অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে আদালত আসামিদের খালাস দিয়ে বাদীকেই এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে চারজন আসামির প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন।

গত ১ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা হয়। সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেননা বাদী। সেদিন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। বুধবার ধার্য তারিখে আদালতে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তা সন্তোষজনক না হওয়ায় এই আদেশ দেন আদালত।

Leave a Reply