সাবিনা ইয়াসমিন/এফ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর ৯০ শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়। আহত হয় আরও শতাধিক।

এ ঘটনার জেরে রোববার রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অনশন, মহাসড়ক অবরোধ ও রেললাইনে অগ্নিসংযোগের মতো কর্মসূচী।

উত্তপ্ত হয়ে পড়ে বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বন্ধ ছিলো ঢাকা-রাজশাহী সড়কে যানবাহন চলাচল। তবে সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দুইদিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল থেকে যথারীতি নিয়মে ক্লাস-পরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার এসব তথ্য জানান।

এদিকে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শনিবারের ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর কতিপয় স্থানীয় লোকজন যেভাবে চড়াও হয়েছিলো তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বৃহৎ আকার ধারণ করলে আমরা ১২-১৩ মার্চ দুদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছিলাম।

আমাদের শিক্ষার্থীরা শান্তিপ্রিয়। তারা আমাদের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছে। আমরা সে দাবিগুলো  মেনে নিয়েছি তারাও ঘরে ফিরে গেছে। এখন ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীকাল থেকে আবারও যথারীতি নিয়মে চলবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আমার প্রশাসন কাজ করার চেষ্টা করছি। তারমধ্যে বড় দাবি হলো শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা। আমাদের দশ তলা করে দুটি ভবনের কাজ চলমান। অতি শীঘ্রই এ ভবনগুলোর কাজ  শেষ হবে।

এ ছাড়াও চারটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য আমরা উপর মহলে আবেদন জানিয়েছি। এছাড়া ক্যাম্পাসের বাহিরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামীকাল মঙ্গলবার মেস মালিক সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক  নেতাকর্মীদের সাথে বসে আলোচনায় বসবে প্রশাসন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানান তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হলেও উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় জানান যে, তদন্ত কমিটির কাজের সুবিধার্থে আরও দুইজন সদস্য যোগ করা হয়েছে।

উপাচার্য জানান, ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে  আছেন, সাবেক প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল হাসান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রশিদ সরকার, সিন্ডিকেট সদস্য মো. শফিকুজ্জামান জোয়ার্দার এবং সহকারী প্রক্টর আরিফুর রহমান। এ কমিটি সব বিষয়ে খুঁটিয়ে দেখবেন এবং আমাদেরকে প্রতিবেদনে জমা দিবেন।

এদিকে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসে মাইকিং করে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলে জানান উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রেও আইডি কার্ড দেখাতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে আইডি কার্ড সাথে নিয়ে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করে  মামলা করেছে পুলিশ।  রোববার রাতে নগরের মতিহার থানায় হওয়া মামলাটির বাদী থানার উপপরিদর্শক আমানত উল্লাহ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল আলম বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রফিকুল আলম বলেন, সরকারি কাজে বাধার দেওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করেছে। এতে ২৫০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কোথাও তাদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়  লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনায় আপাতত কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নেবে না প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। শনিবারের ঘটনাকে ঘিরে রোববার রাতে রেললাইনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে সাত সংগঠন একটি বিবৃতি দেয়।

সংগঠনগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন ও নাগরিক ছাত্র ঐক্য। বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রায়হান আফরোজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

শনিবার সন্ধ্যার ঘটনার পর থেকে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিলো।

তবে সোমবার সকালের পর যানচলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, কাজলা ও বিনোদপুর গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Leave a Reply