গ্রামবাসীদের ভাগ্য ফেরালো আলুর চিপস্

91
গ্রামবাসীদের ভাগ্য ফেরালো আলুর চিপস্

জয়পুরহাটের: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার শ্রীকৃষ্টপুরের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার আলুর চিপস্ তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছে। দূর হয়েছে সংসারের অভাব। ছেলে-মেয়েরা ভালো স্কুলে পড়াশোনা করছে।

হাতে তৈরি করা এসব আলুর চিপসের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় লোকশান গুনতে হয়নি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চিপস্ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, আলুর চিপস্ তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারী-পুরুষরা। কেউ আলু সিদ্ধ করছেন, কেউ আলু কাটছেন, আবার কেউ কাটা আলুর চিপস্ রোদে শুকাতে দিচ্ছেন।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজার থেকে (ক্যাটিনাল) প্রতি মণ আলু ২৮০ টাকায় সংগ্রহ করে সিদ্ধ করার পর কেটে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় চিপস্। এক মণ আলু থেকে ৮ কেজি চিপস্ তৈরি করা যায়। সারাবছরই এই আলুর চিপস্ তৈরি করা হয়। যা ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের চিপস্ ব্যবসায়ী আবু রায়হান বলেন, পাঁচ মণ আলু সিদ্ধ করে কেটে সেগুলো রোদে শুকিয়ে এক মণ শুকনো চিপস্ তৈরী করা যায়। এক মণ চিপস্ তৈরি করতে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। সময় লাগে দুই দিন। আর এক মণ চিপস্ বাজারে বিক্রি হয় সাড়ে তিন হাজার টাকায়। দুই দিনে লাভ হয় দুই হাজার টাকা। বাপ দাদার এ ব্যবসা এখনো আমরা করে আসছি। এ ব্যবসা করে আমরা পরিবারের উন্নতি করেছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে।

চিপস্ তৈরি করতে একটু পরিশ্রম বেশি হলেও আজ পর্যন্ত লোকসানের মুখ দেখতে হয়নি। যে সব ব্যবসায়ীর পুঁজি বেশি তারা বেশি করে আলু কিনে চিপস্ তৈরি করে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের আলু কিনে চিপস্ তৈরি করে সংরক্ষণ করার সামর্থ্য নেই।

আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, পৌরসভার প্রত্যন্ত গ্রাম শ্রীকৃষ্টপুর। চিপস্ তৈরির ফলে আলুর বহুবিদ ব্যবহার হচ্ছে। সরকার যদি এর সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেন তাহলে তারা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আলুর বহুবিদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে আলুচাষিদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হবে।

আপনার মন্তব্য