ঝড়পড়া আম থেকে হরেক স্বাদের আচার

19
ঝড়পড়া আম থেকে হরেক স্বাদের আচার

নওগাঁ: চলছে মধুমাস, আমের মৌসুম। তবে আম এখনো পরিপক্ব হয়নি। বিভিন্ন সময় ঝড়ের কারণে অপরিপক্ব আম গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। এক সময় এ ঝরে পড়া আমগুলো গাছের নিচে পচে নষ্ট হতো। কিন্তু প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ঝড়ে পড়া আম থেকে আচার তৈরি করছেন গ্রামের নারীরা।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালীগ্রাম শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের উদ্যোগে গ্রামীণ নারীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। গাছ থেকে ঝরে যাওয়া আম থেকে নানা রকমের সুস্বাদু আচার তৈরি করতে তাদের সংগঠিত করা হয়।

এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ওই গ্রামের বেশিরভাগ নারী তৈরি করছেন আমের বিভিন্ন রকম আচার। এতে একদিকে যেমন ঝরে যাওয়া আমগুলো নষ্ট হচ্ছে না। অন্যদিকে এসব আচার মানুষের রুচি বাড়ায়।

কালীগ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর গড়ে তুলেছেন শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহ। তিনি রাজশাহী কলেজিয়েন্ট স্কুলে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিন বিঘা জমির উপর স্থাপন করা হয়েছে কৃষি লাইব্রেরি। সেখানে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন ফলদ ও ওষধি গাছ।

কৃষি তথ্য পাঠাগারে কৃষি বিষয়ের উপর বিভিন্ন ধরনের বই সংরক্ষিত আছে। কৃষকরা সেখান থেকে বই পড়ে কৃষি বিষয়ে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। কৃষি বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন হলে এলাকায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে তা কৃষকদের দেখানো হয়।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সময় যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সারাদেশে ইতোমধ্যেই সুখ্যাতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাঠাগারের উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম শাহ এবং জোৎস্না বেগম নামের এক সদস্য রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটে আমের আচার ও বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু খাবার তৈরি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে তারা কালীগ্রামের গৃহিণীদের এ প্রশিক্ষণ দেন। সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে গৃহিণীরা এখন আমের আচার তৈরি করছেন।

গাছ থেকে ঝরে পড়া আমগুলো কুড়িয়ে নানা রকমের আচার তৈরি করতে জাহাঙ্গীর আলম শাহ উদ্বুদ্ধ করেছেন গ্রামীণ নারীদের। এ গ্রামের প্রতিটি বাড়ির নারীরা এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৈরি করেছেন হরেক রকমের আচার। এসব আচার প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেন তিনি। আমের মৌসুমে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এসব আচার তৈরি করা হচ্ছে।

গৃহিণী মৌসুমী সুলতানা, হালিমা বিবি ও ছাত্রী তানিয়া খাতুন বলেন, ‘একসময় গাছ থেকে ঝরে পড়া আম দিয়ে শুধু আচার তৈরি করতে পারতাম। কৃষি তথ্য পাঠাগার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আম থেকে সন্দেশ, জুস, রসমালাই, চমচম, আমসত্ত্ব, আমচুর, নবাবী, বরই, চচ্চড়িসহ হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে পারি। সুস্বাদু খাবারগুলো বাজারজাত করাও সম্ভব।’

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম শাহ বলেন, ‘একসময় আম গাছের নিচে আম পড়ে নষ্ট হয়ে যেত। সেগুলো এখন কাজে লাগছে। এ উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এলাকার কোথাও আম গাছের নিচে আর আম পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে না। এ উদ্যোগ একসময় বাণিজ্য হিসেবে পরিগণিত হবে।’

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম গোলাম ফারুক বলেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এটি অর্থনৈতিক আয়ের একটি বড় দিক হতে পারে। যাতে গ্রামীণ নীরাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব।’

আপনার মন্তব্য