জনপ্রিয়তা থেকে দেহব্যবসায় নায়িকা, করুণ মৃত্যু এইডসে

413
জনপ্রিয়তা থেকে দেহব্যবসায় নায়িকা, করুণ মৃত্যু এইডসে

বিনোদন ডেস্ক: ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নায়িকা। তারপর খেই হারিয়ে তলিয়ে যান অন্ধকার সম্রাজ্যে। শেষ জীবনে করুণ মৃত্যু ডেকে আনে এইডস।

বলছি দক্ষিণী ফিল্মে আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন নিসা নুরের কথা। 

সম্প্রতি তার ভাগ্য পরিবর্তনের এক করুণ গল্প জানালো ভারতীয় গণমাধ্যম। এ গল্প ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সেখানে বলা হয়েছে, একজন তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা কীভাবে সব হারিয়ে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়ে গেলেন। 

দীপিকা পাডুকোন বা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো হয়তো সবাই এক নামে তাকে চিনবে না।তবে দক্ষিণী ফিল্মে আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন নিসা নুর। 

তার জনপ্রিয়তা আঁচ করা যায় এটা জেনে, নিসার সঙ্গে অভিনেত্রী করতে নিজেরাই আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তামিল সুপারস্টার রজনীকান্ত ও কমল হাসান।

বালাচন্দন, বিষু, চন্দ্রশেখরের মতো এককালের নামকরা সব পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন নিসা নুর। ‘কল্যানা আগাথিগাল’, ‘লায়ার দ্য গ্রেট’, ‘টিক! টিক! টিক!’-এর মতো প্রচুর হিট ফিল্মে অভিনয় করেছেন। মূলত তামিল এবং মালায়লম সিনেমাতেই অভিনয় করতেন তিনি।

এমন হিট নায়িকার জীবন কিন্তু ছিল হতাশায় ভরা, শেষ জীবনে অর্থকষ্টে রাস্তায় কাটাতে হয়েছে তাকে। গায়ে পোকা, মাছি বসে থাকত। শেষে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তার।

ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অপ্রত্যাশিতভাবেই আচমকা ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান তিনি। শোনা যায়, সে সময় নাকি এক নাম করা প্রযোজকের খপ্পরে পড়ে গিয়েছিলেন নিসা। ওই প্রযোজক তার সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন। তাকে যৌন পেশায় নামতে বাধ্য করেছিলেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্ডাস্ট্রি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কেউই তার সঙ্গে কাজ করতে চাইছিলেন না। বাধ্য হয়েই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন নিসা নুর।কাজ হারিয়ে ক্রমে আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েন তিনি। দিনের পর দিন খেতে পেতেন না। এই সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোরও কেউ ছিল না।

অনেক বছর পর ২০০৭ সালে চেন্নাইয়ের একটি দরগার বাইরে রাস্তায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কঙ্কালসার চেহারা, মলিন পোশাক, গায়ে পোকা, মাছি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তিনি এতটাই শীর্ণ ছিলেন যে মাছি তাড়ানোরও শক্তি ছিল না দেহে। দেখে বোঝার কোনো উপায়ই ছিল না যে তিনিই সেই নিসা নুর।

তাকে চিনতে পেরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসায় ধরা পড়ে তিনি এইচআইভি-তে আক্রান্ত। অবশেষে ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। 

আপনার মন্তব্য