‘ফাহাদের মায়ের অভিশাপে যেনো ধ্বংস হয় অসুস্থ সমাজ’

72

বিনোদন ডেস্ক:  বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা-মায়ের অভিশাপে যেনো ধ্বংস হয় অসুস্থ সমাজ! এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন।

এই নিয়ে ফেইসবুকে মঙ্গলবার দুপুরে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস শাওন।

তিনি লেখেন, “বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ‘৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারা জীবন তার মুখে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমারও। 

ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষাই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যেকোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে।

এই প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরারের কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দু’টোর পিঠ হাত-পা’র ওপর হাত বুলিয়ে দেই। 

ছোটবেলায় এ রকম ছোট ছোট হাত পা-ই তো ছিল আবরারের! তার মা কত রাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাকে! একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি ‘মা গো’ বলে চিৎকার দিয়েছিল?

 ‘মা গো’ ডাক শুনে খুনি ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মা-এর কথা মনে পড়েনি! ঠিক কতবার.., কতক্ষণ ধরে.., কতটুকু আঘাত করলে ২০/২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়! আমি আর ভাবতে পারি না।”

শাওন আরও লেখেন, “ফেইসবুকে আবরারের পিঠটার ছবি দেখলাম। কী ভয়ংকর! কী নৃশংস! কী কষ্ট! এই ছবিটা যেন তার বাবা-মা’র চোখে না পড়ে। ভুল বলেছি। 

আবরারের বাবা, আবরারের মা তাদের বাবুটার ক্ষতবিক্ষত পিঠে হাত বুলিয়ে যেন অভিশাপ দেন মানুষের মতো দেখতে খুনি অমানুষগুলোকে। তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ।”

“নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি, আবরারকেও ভুলে যাব, বিচার চাই বলে লাভ আছে কিনা জানি না তবুও, বিচার চাই”, এভাবেই লেখা শেষ করেন শাওন।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-এ-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এ ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল দেশ। 

আপনার মন্তব্য