করোনায় রাজশাহীর রোগিরা ঝুঁকছেন হোমিওতে

7

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দিয়েছেন রাজশাহীর চিকিৎসকরা। ফলে বন্ধ রয়েছে এখানকার বেসরকারী ক্লিনিক-ডায়াগনেস্টিক সেন্টার। 

ফলে জরুরী সেবা নিতে রোগিরা যাচ্ছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। 

তবে সেখানেও করোনা সংক্রমণ আতঙ্ক। ফলে সাধারণ অসুখ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেননা অনেকেই কেউই। কেউ কেউ রোগ নিরাময়ে বেছে নিচ্ছেন হোমিও চিকিৎসা।

ফলে আগের চেয়ে নগরীর হোমিও চিকিৎসকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়েই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন হোমিও চিকিৎসকরা।

হোমিও চিকিৎসকদের সংগঠন-স্বাধীনতা হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কেবল রাজশাহী নগরীতেই হোমিও চিকিৎসক রয়েছেন দুই শতাধিক। এদের অর্ধেকর বেশিরভাগই দিনে শতাধিক রোগি দেখছেন।

সবমিলিয়ে গড়ে দিনে হাজারখানেক রোগি দেখছেন হোমিও চিকিৎসকরা।  আগে হোমিও চিকিৎসকরা মোট রোগির ৪৫ শতাংশ দেখতেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশের উপরে।

ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতেও সাত সকালে রোগি দেখা শুরু করেন নগরীর বাটারমোটের রাজশাহী হোমিও সিন্ডিকেটের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হোসেন। করোনার কারণে এখন রোগির চাপ বেশি। প্রতিদিনই ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী আসছেন।

এদের মধ্যে নতুন রোগিই বেশি। যারা অধিকাংশই জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসছেন। এটি করোনার প্রাথমিক উপসর্গ হলেও হোমিওতে লক্ষণ দেখে ওষুধ দিলেই সেরে যাচ্ছে। 

একই ভাষ্য নগরীর মালোপাড়া এলাকার মক্কা হোমিও ফার্মেসির চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন কবীর মিঠুর। 

তিনি বলেন, বরাবরই আমি ক্রণিক রোগি বেশি দেখি। কিন্তু করোনার কারণে এখন জ্বর-সর্দি নিয়ে আসছেন রোগিরা। লক্ষণ দেখে ওষুধ দিচ্ছি। উপসমও হচ্ছে।

নতুন রোগি বাড়লেও করোনা আতঙ্কে পুরনো রোগি দশভাগের এক ভাগে নেমেছে বলে জানিয়েছেন একই এলাকার

সামাদিয়া হোমিও ফার্মেসির চিকিৎসক ডা. গোলাম সারোয়ার। 

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে জটিল-কঠিন রোগিরা তাদের কাছে আসতেও সাহস পাচ্ছেননা। অনেকেই ফোন করছেন, ওষুধ চাইছেন। তারা সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছেন। জ্বর-সর্দি নিয়ে যারা আসছেন তারা অধিকাংশই নতুন। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হোমিওতেই ভালো হচ্ছেন লোকজন।

চলমান লকডাউনে বাইরে থেকে রোগিরা আসতে পারছেনা বলে জানিয়েছেন মালোপাড়া এলাকার বিসমিল্লাহ হোমিও ফার্মেসির চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, এখন যেসব রোগি আসছেন, তারা নগরীর বাসিন্দা। বাইরে থেকে রোগিরা আসতে পারছেননা। তবুও এই সংখ্যা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। 

জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ মৌসুমী অসুখ নিয়ে আসছেন বেশিরভাগ রোগি। এদের বড় অংশ আবার শিশু।

চিকিৎসায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার রোকিয়া হোমেও হলের চিকিৎসক ডা. আবদুল মতিন। 

তিনি বলেন, করোনা থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষায়  আমরা সরকারীভাবে সরবরাহকৃত পিপিই পরছি। রোগিদেরও চেম্বারে প্রবেশের আগে হাত ধোয়ানো হচ্ছে। বসানোর ক্ষেত্রে সামাজিদ দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে সবখানেই তারা বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করছেন।

জানতে চাইলে যে কোন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায়  কাজ করে যাবার কথা জানান

রাজশাহী জেলা স্বাধীনতা হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক পরিষদের  সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল খালেক।

 জাতীয় করোনা প্রতিরোধ কমিটির এই সদস্য হোমিও চিকিৎসকদের করোনা চিকিৎসা ঘুরে ঘুরে দেখভাল করছেন । প্রত্যেকের হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন পিপিই।

তিনি জানান, দেশের এই ক্রান্তিকালে হোমিও চিকিৎসকরা মানুষের পাশে রয়েছেন। তারা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এখনো করোনার প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। এই পরিস্থিতিতে করোনা চিকিৎসায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হোমিও চিকিৎসাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশেও হোমিওর প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ছে। 

এই চিকিৎসক নেতা আরো বলেন, এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা  ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রি সরবরাহ প্রক্রিয়া চলমান। কিছু ঘাটতিও আছে। এই ঘাটতি পুরণে হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের প্রতি আহবান জানান তিনি। একই সাথে নগরীকে করোনামুক্ত রাখতে সিটি মেয়রের সহায়তাও কামনা করেন।

স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,

রাজশাহী বিভাগে বেড়েই চলেছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ধরা পড়েছে ১৬ জনের। সবমিলিয়ে বিভাগের আট জেলায় করোনা রোগির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৩ জনে। দুই দিন আগেও এই সংখ্যা ছিলো ২০৭ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মাত্র একজন। আর এক রোগি সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ পর্যন্ত বিভাগে ১৬ করোনা রোগি সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। করোনায় মৃতের সংখ্যা এখনো আটকে রয়েছে দুই এ। 

এ পর্যন্ত রাজশাহীতে ১৭ করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

আপনার মন্তব্য