কৃষকের গম কিনতে খাদ্য দপ্তরের কারসাজি!

35
কৃষকের গম কিনতে খাদ্য দপ্তরের কারসাজি!

মোফাজ্জল বিদ্যুৎ: কারসাজিতে আটকে পড়েছে রাজশাহী বিভাগে কৃষকের কাছ থেকে এবারের গম কেনা। প্রায় এক মাসেও লক্ষ্যমাত্রার দশ শতাংশ গম ওঠেনি খাদ্য গুদামে।

কিন্তু সংসার চালাতে গোলার গম সস্তায় বেচে দিয়েছেন কৃষক। এই গম এখন ফড়িয়া ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের কব্জায়। ফলে এবারো গমের নায্য মূল্য পাননি চাষি।

সরকারী উদ্যোগে গম কেনায় কারসাজিতে এবারো কৃষকের লাভের অর্থ যাবে মধ্যসত্ত্বভোগীদের পকেটেই। আর এ জন্যই গম কেনায় গড়িমসির অভিযোগ আনছেন কৃষকরা।

তবে খাদ্য দপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৭ এপ্রিল গম ক্রয় সংক্রান্ত খাদ্য অধিদপ্তরের আদেশের চিঠি পেয়েছে আঞ্চলিক খাদ্য দপ্তর। এর কয়েক দিনের মাথায় বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে গম কেনা।

এবার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই গম কেনা হবে-এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর এই কারণেই গম কেনায় ধীরগতি।

এদিকে, ফসলের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রাস্তায় নেমেছেন কৃষক বাবার সন্তানরা। বুধবার রাজশাহী নগরী ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসব কৃষকের সন্তান মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশ থেকে কৃষি পণের মূল্য নির্ধারণ, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্বের লাগাম টেনে ধরার আহবান জানানো হয়।

এদিকে, রাজশাহী অঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর জানিয়েছে, এই মৌসুমে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২১ হাজার ৫০৩ টন। এর মধ্যে ১৩ মে পর্যন্ত কেনা হয়েছে এক হাজার ৪৫৬ টন। শতকরা হিসেবে যা লক্ষ্যমাত্রার ৭ শতাংশের কম।

এক মাসেও গম কেনা শুরু হয়নি রাজশাহী ও নাটোর জেলায়। রাজশাহীতে ৩ হাজার ৮৭ টন এবং নাটোরে ২ হাজার ৬৫৫ টন গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

নওগাঁয় এবছর গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৮১২ টন। এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে মাত্র ৮৬ টন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ২৭১ টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে ১৩০টন।

এবছর গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা পাবনায় ৩ হাজার ৩৭১ টন, সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ১৫১ টন, বগুড়ায় এক হাজার ২৭১ টন এবং জয়পুরহাটে এক হাজার ৭৮৬ টন। এই চার জেলার মধ্যে সাকুল্যে কেনা হয়েছে পাবনায় ৬০টন, সিরজগঞ্জে ১৭০টন, বগুড়ায় ১৫৬ টন এবং জয়পুরহাটে ৮৫৫টন।

রাজশাহী ও নাটোরের কৃষকরা বলছেন, খাদ্য দপ্তর তাদের গম কিনছেনা। কবে গম কেনা শুরু হবে সেটিও নিশ্চিত করছেন। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কম দামেই গম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।

কৃষকদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে কিনে নেয়া গম মজুদ করে রেখেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও মজুদদাররা। শোনা যাচ্ছে, তারাই খাদ্য গুদামে গম দেবেন।

এতে কৃষকের লাভের পুরো টাকায় যাবে মধ্যসত্ত্বভোগীদের পকেটে। মধ্যসত্ত্বভোগীদের সুবিধা করে দিতেই খাদ্য দপ্তরের এই গড়িমশি বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

তবে কৃষকদের এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন, রাজশাহী সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২৮ টাকা কেজি দরে একমাস ধরে চলছে গম কেনা।

অনিয়ম ঠেকাতে কয়েক ধাপে তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে গম কেনা হচ্ছে এবার। এতেই বিলম্ব হচ্ছে গম কেনায়।

তিনি স্বিকার করেন, অন্যান্যবার এম মাসেই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকই গম কেনা হয়ে যায়। এবার এই পর্যন্ত কেনা হয়েছে ১০ শতাংশের নিচে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে গম ক্রয়।

ওই সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এবার গম কেনায় অনিয়ম হবার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন এই খাদ্য কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য