গতি পাচ্ছে না ডিজিটাল রাজশাহী!

24
গতি পাচ্ছে না ডিজিটাল রাজশাহী!

স্টাফ রিপোর্টার: কাঙ্খিত অগ্রগতি নেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল রাজশাহীর। জেলার ৯টি সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট অত্যন্ত দুর্বল ও অসম্পূর্ণ। 

লাইভে থাকা ৪৩ দপ্তরের মধ্যে ই-নথি চালু রয়েছে মাত্র ১৩টিতে। অনিষ্পন্ন রয়েছে বিশাল অংকের ডাক।

ই-নামজারিতেও ততটা অগ্রগতি নেই। দক্ষ জনবল না থাকায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুফল পাচ্ছেনা সুবিধাভোগীরা।

নগরীর ৩০টি সিটি ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম অনেকাংশেই চলমান নেই। একমাত্র পুঠিয়া পৌরসভা বাদে জেলার ১৩টি পৌর ও ৭২টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার চলছে বেশ ভালোভাবেই।

জেলা আইসিটি কমিটির গত নভেম্বর মাসের সভায় বিষয়টি উঠে এসেছে। ১৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হক।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি দপ্তরের নিজস্ব ওয়েব সাইট অত্যন্ত দুর্বল ও অসম্পূর্ণ। রাজশাহীর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪, আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মহিলা সহায়তা কর্মসূচি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন, ফরেস্ট্রি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউ, অঞ্চলিক স্কাউট অফিস, বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী এবং সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের ওয়েবসাইট অত্যন্ত দুর্বল। কার্যালয়গুলোতে ৭ দশমিক ৩৩ থেকে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ অসম্পূর্ণতা রয়েছে। 

শিগগিরই ওয়েবসাইটগুলোর এই দুর্বলতা কাটিয়ে ‍ওঠার আহবান জানানো হয়েছে সভা থেকে। একই সাথে দুর্বল আরো ১০টি দপ্তরের নাম প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে ব্যবস্থাপনায় দুর্বলদের প্রশিক্ষণেরও অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে, ই-নথিতেও পিছিয়ে রয়েছে রাজশাহী। জেলার বিভিন্ন দপ্তরে শুরুই হয়নি ই-নথি কার্যক্রম। জেলার ৪৩টি দপ্তর লাইভে থাকলেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ মাত্র ১৩টি দপ্তর ই-নথিতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও প্রত্যেক দপ্তরকে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 

জানা গেছে, জেলার সবগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ই-নথি কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবুও পবায় ৪৫টি, পুঠিয়ায় ৬৭৩টি, মোহনপুরে ৫২৬টি, দুর্গাপুরে ১৪৪টি, চারঘাটে এক হাজার ৯১৭টি, বাঘায়  এক হাজার ৬টি, তানোরে এক হাজার ৬৭৮টি, বাগমারায় ৫৪০টি এবং গোদাগাড়ীতে ১৬টি ডাক অনিষ্পন্ন রয়েছে। তবে পবায় ৭২টি, দুর্গাপুরে ৫১টি এবং চারঘাটে ১৮টি ডাক নিষ্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিসের ই-নথি ড্যাশবোর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সকল দপ্তরেই অনিষ্পন্ন ডাক রয়েছে। কোন দপ্তরেই ই-নথি সিস্টেম কাজ করছেনা। উপজেলা পর্যায়ের সকল নির্বাহী এবং ভূমি অফিসে নিয়মিত ই-নথিতে পত্রের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সভায় জানান, গত অক্টোবর মাসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণের কার্যালয়ে মোট ২ হাজার ৭৪৫টি ই-নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলো কার্যক্রর করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। সভায় জানানো হয়, যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে পারছেন না। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর নগরীর ৩০ ওয়ার্ডে সিটি ডিজিটাল সেন্টার বিদ্যমান। কিন্তু সেগুলো অনেকাংশে চলমানও নেই বলে তথ্য দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে ভালোভাবেই চলছে ১৪টি পৌর এবং ৭২টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। 

সভায় জানানো হয়, গত অক্টোবরে ৩৩০২ জনকে সেবা দিয়ে পৌর ডিজিটাল সেন্টারগুলো আয় করেছে এক লাখ ৬৩ হাজার ২২৬ টাকা। একই মাসে ৮২ হাজার ৪৫৪ জনকে সেবা দিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো আয় করেছে ১৭ লাখ ১৮ হাজার ১৮৮ টাকা।

সূত্র জানায়, বেশ কিছু পৌর ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা নেই। সেগুলো চালাচ্ছেন পৌর কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা। 

ওই সভায় জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, উন্নয়নের মূল হাতিয়ার আইসিটি। এ ক্ষেত্রে রাজশাহী জেলার সকল সরকারি দপ্তর আইসিটি কার্যক্রমে পিছিয়ে। দপ্তরগুলোতে আইসিটি কাডর্যক্রম বাড়ানো বিশেষ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

আপনার মন্তব্য