পদ্মায় মাছ শিকারে অবৈধ জাল!

19

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মাছ শিকারে ব্যবহার নিষিদ্ধ জাল নামাচ্ছেন জেলেরা। ছোট ফাঁস এবং অবৈধ কারেন্ট জালে মারা পড়ছে অর্ধশতাধিক জাতের ছোট মাছসহ মা মাছও।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যেই মাছের উৎপাদন করে যাবার শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিয়ষটি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস দপ্তরে। নৌ-পুলিশকে সাথে নিয়ে প্রায় প্রতিদিন টহল দিচ্ছে নদীতে। ব্যবহার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। জেল-জরমানাও হচ্ছে জেলেদের। তবুও থামছেনা ব্যবহার নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার।

সর্বশেষ শুক্রবার জেলার চারঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে নৌ-পুলিশ। এসময় কোন জেলেকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি জালের মালিককেও। পরে তা প্রকাশ্য পুড়িয়ে নষ্ট করে দেয়া।

ওই অভিযানে অংশ নেন জেলার পবা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান,  এসব জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ব্যবহার করছেন জেলেরা।  সচেতন করেও কাজেরকাজ হচ্ছে। মাছের প্রজাতি রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারী জেলার পবা উপজেলার বেড়পাড়া, সোনাইকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকার পদ্মা তীরে অবস্থানকারী কয়েকটি নৌকায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট বেড় জাল জব্দ করে নৌ পুলিশ। এসব ব্যবহার নিষিদ্ধ জাল পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। 

মাঝে মধ্যেই পদ্মায় অবৈধ জাল জব্দের পর ধ্বংসের খবর মেলে। এর আগে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের মাছ শিকারের দায়ে রাজশাহীর ১০ জন জেলেকে কারাগারে যেতে হয়েছে। জরিমানা দিয়েছেন তিন জন। আর ১ লাখ ৩২ হাজার মিটারেরও বেশি জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

পদ্মা পাড়ের  জেলার পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রিজভী আল হাসান মুন্জিল বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গহমাবোনা থেকে বাঘা উপজেলার রাওথা পর্যন্ত পদ্মা পাড়ে প্রায় প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবারের বাস।

প্রতিদিন ২০০ টাকা খরচ করে জেলেরা নদীতে নামেন মাছ শিকারে। মাছ বেচে দিনে সর্বোচ্চ  ৭০০ টাকা আয় করতে পারেন জেলেরা। মাছ বিক্রির অর্থে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবারগুলো।

জেলেদের  অভিযোগ, পদ্মায় অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী জেলে মাঠ শিকার করেন ব্যবহার নিষিদ্ধ জালে। পুলিশ তাদের কিছুই বলছেনা। কিন্তু সাধারণ জেলেদের পুলিশ কিছুই বলছেনা। 

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী নৌ পুলিশের পরিদর্শক মেহেদি মাসুদ। তিনি বলেন, আমরা নতুন এই এলাকায় কাজ শুরু করেছি তাই কেউ কেউ আমাদের কাজে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। কোন কোন জেলেকে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এই পুলিশ কর্তা বলেন, আইনে কারেন্ট জাল ছাড়াও নেট জাল,  বেড় জাল, জগৎ বেড় জাল, চরগড়া জালসহ প্রায় ১৬ ধরনের জাল যেগুলো আড়াই সেন্টিমিটার ফাঁসের নিচে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নৌ পুলিশ আইনের বাইরে কোনো কাজ করেননি।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের অধ্যাপক এবিএম মহসিন বলেন,  মাছ শিকারে নিষিদ্ধ এসব জাল ব্যবহারের ফলে আপাত দৃষ্টিতে জেলেরা লাভবান হচ্ছেন ঠিকই কিন্তু মা মাছের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়ায় বছর বছর মোট মাছের পরিমাণ কমছে। 

এই ধারা চলতে থাকলে আগামী ১০ থেকে ২০ বছর পর এসব মাছের উৎপাদন অনেকাংশে কমে যাবে। যাতে জেলারাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। অনেকেই বাধ্য হবেন পেশা বদলাতে। ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই জেলেদের নিষিদ্ধ এই জাল ছেড়ে দেয়া।

আপনার মন্তব্য