রাজশাহীতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

199
রাজশাহীতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

স্টাফ রিপোর্টার: ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ হয়েছিলো রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায়। কিন্তু এই শহিদ মিনারের নেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ভাষা আন্দোলনে এখানকার ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ ইতিহাসের অংশ।

শহরের প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজারের ঐতিহাসিক ভূবনমোহন পার্কে রয়েছে আরেক শহিদ মিনার। দখলে দখলে এটি হয়ে পড়েছে অবরুদ্ধ। দীর্ঘদিনেও শিক্ষানগরীখ্যাত এই শহরে নেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

তবে প্রতিক্ষার অবসান হচ্ছে এবার। নগরীর সোনাদীঘি মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন সিটি কমপ্লেক্সের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন শহিদ মিনার। এটি নির্মাণ হবে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আদলেই।

এই শহিদ মিনার নির্মাণ হবে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের এক দশমিক শূণ্য এক একর জায়গায়। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

রাজশাহীতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন হবে সরকারী খাত থেকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সিটি করপোরেশন। শহিদ মিনার নির্মাণের নকশাসহ সব পরিকল্পনা চুাড়ান্ত।

শহিদ মিনার নির্মাণ হচ্ছে সোনাদীঘির উত্তর-পশ্চিম পাড় ঘেঁষে। দক্ষিণ দিকে থাকছে সিটি সেন্টার। দীঘির পাড় থেকে সোপান উঠছে শহিদ মিনারের চত্ত্বর পর্যন্ত। থাকছে সুপরিসর ফাঁকা যায়গাসহ পায়ে হাঁটা পথ।

কিন্তু ১৬ তলা সিটি সেন্টারের এখন পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে ১৪ তলা পর্যন্ত। এই প্রকল্পে রয়েছে মসজিদ, তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার, এমফি থিয়েটার, পায়ে হাঁটা পথ নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপিংসহ সোনাদিঘির সংস্কার। কাজ শুরুর প্রায় এক দশকে এই কাজে হাত লাগায়নি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনা প্রোপার্টিজ।

২০০৯ সালে পিপিপির আওতায় সিটি করপোরেশনের পুরানো ভবনের জায়গায় সিটি সেন্টার নির্মাণকাজ শুরু করে এনা প্রোপার্টিজ। কথা ছিলো ২০১৪ সালের ১ এপ্রিলে শেষ হবে নির্মাণ। পরে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি রাজশাহী-৪ (রাগমারা) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

রাজশাহীতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণ বিষয়ে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নির্মাণাধীন সিটি কমপ্লেক্সের সাথেই যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। জেলা পরিষদের জায়গায় এটি নির্মাণ পরিকল্পনা চুড়ান্ত।

এনিয়ে অতিসম্প্রতি রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজে হাত দেবে রাসিক।

সিটি সেন্টার নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এই নির্মাণকাজ নিয়ে সম্প্রতি রাসিক ও এনা প্রোপার্টিজের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রতিষ্ঠানটিকে তাগাদা দেয়া হয়। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আপনার মন্তব্য