মোবাইল-ল্যাপটপের ব্যাটারি তৈরীতে হবে যমুনার বালিতে!

210

ফিচার ডেস্ক: এখন থেকে মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যাটারি তৈরীতে হবে যমুনার বালিতে। প্রমত্তা যমুনার বালিতে ব্যাটারি তৈরির উপাদান মোনাজাইটের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর। 

সংস্থাটি বলছে, যমুনার বালিতে দশমিক ৫৮ থেকে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ হারে দামি এই খনিজের উপস্থিতি রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া তাদের সমুদ্র তীরে সামান্য হারে প্রাপ্ত এই ভারী খনিজ আহরণ করছে। অস্ট্রেলিয়ায় বালিতে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এই খনিজের উপস্থিতি রয়েছে। অল্প পরিমাণ উপস্থিতিতেই সংগ্রহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে দেশটি। 

সেখানে বাংলাদেশে যমুনার বক্ষে এর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয় বলে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)।

জিএসবি জানাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র- যমুনা বেসিনের উজান থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ৩ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি সমীক্ষা করা হয়। ২০১৫ সালে ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রকল্পটির নাম ছিলো—নদী বক্ষের বালিতে ভারী খনিজ শনাক্ত ও আর্থিক মূল্যায়ন। 

এর আগে একটি ছোট সার্ভে হয়েছিল। সেই সার্ভেতে এসব মূল্যবান খনিজ বালির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

এবারের সার্ভেতে ভরী খনিজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। যার গড় দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। 

ভারী খনিজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৫ দশমিক ২ থেকে ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ হারে। যার গড় হচ্ছে ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ।

 এরমধ্যে ইলমেনাইট ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে ২৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গারনেট ৮ দশমিক ৮৬ থেকে ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ, জিরকন ৬ শতাংশ থেকে ২৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, রুটাইল ১ দশমিক ৪৪ থেকে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ, কেনাইটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এবারের সমীক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল, এর পরিমাণ কত এবং বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্য কি না। জিএসবি ব্রহ্মপুত্র–যমুনা এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের বালির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে টেস্ট করে। এসব বারী খনিজ বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্য বলে নিশ্চিত হয়েছে জরিপ দল।

৫ আগস্ট জ্বালানি বিভাগের সচিবের উপস্থিতিতে রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। 

১০ ফুট, ১৫ ফুট ৩০ ফুট গভীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

জিএসবি মনে করছে এই পরিমাণ খনিজ বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্য। এরমধ্যে ব্যাটারি তৈরির উপাদানটি সবচেয়ে দামি।

 এই খনিজ উপাদান এখন পুরোটাই আমদানি করে বাংলাদেশ। আমদানির পরিবর্তে রফতানি করা সম্ভব বলে মনে করেন ভূতত্ত্ববিদরা।

জিএসবি মনে করছে, প্রতিটন হেভি মিনারেল থেকে ২ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে এই বালি থেকে হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

এসব খনিজ বালুর পাশাপাশি আরও কিছু মূল্যবান খনিজ থাকতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকদিন ধরেই নদী ও সমুদ্রের বালুতে খনিজ উপাদান নিয়ে নানা রকম গবেষণা চলছে। 

অনেক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও কোনটারই চূড়ান্ত পরিণতি দেখা মেলেনি। এবার কিছু একটা হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর।

৫ আগস্ট প্রেজেন্টেশন দেখে দুপুর আড়াইটায় সচিবালয় ফেরেন জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যচ্ছিলেন ঠিক তখন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নেমে যাচ্ছিলেন। সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন মূল্যবান খনিজ সম্পর্কে।

সচিব বলেন, দারুণ আশার কথা। এখন কনস্যালটেন্ট নিয়োগ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। প্রতিমন্ত্রীও তাকে উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন।

আপনার মন্তব্য