দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি

30
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি

জাতীয় ডেস্ক: আবারো রক্তাক্ত হলো ঢাকার রাজপথ। অসময়ে ঝরে গেছে আরো একটি তাজা প্রাণ। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্রগতি সরণির  নর্দ্দায় বাস চাপায় আবরার আহমেদ চৌধুরী নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবরার আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। 


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে বিইউপির একটি বাস শিক্ষার্থীদের নেওয়ার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দাঁড়িয়েছিল। আবরার বাসে উঠার সময় গাজীপুরগামী বেপরোয়াভাবে আসা সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


এর আগে গত বছরের ৩০ জুলাই রাজধানীর দুই লোকাল বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারিয়েছিলো শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী। উক্ত ঘটনার জের ধরে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করলেও বন্ধ হয়নি চালকদের বেপরোয়াভাবে বাস চালানো।


বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বলছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশেরই কারণ হলো চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতি। 


রাজধানীতে চুক্তিতে লোকাল বাস চালানোর কারণেই চালকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এছাড়া এই চালকদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অনেক সময় চালকের পরিবর্তে বাস চালায় হেলপার। এরা কেউ আইনের তোয়াক্কা করে না। লোকাল বাসের এ মরণ রেসের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।


বেতনভুক্ত চালক দিয়ে লোকাল বাস চালালে মালিক তার প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ করতে পারেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক তাদের বাস মিনিবাস চালককে চুক্তিতে চালাতে দিচ্ছে। চুক্তির কারণেই চালকরা বেপরোয়া। কারণ একই রুটের যে বাস আগে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে সেই ফিরতি ট্রিপের সিরিয়াল পাবে আগে।

এছাড়া চুক্তির বাইরে যত বেশি উপার্জন করা হবে তত বেশি অর্থ চালকের পকেটে থাকবে। এজন্যই বেশি যাত্রী পরিবহনের আশায় চালকদের মধ্যে দেখা যায় এক ধরণের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এ কারণে একই রুটের বাসের মধ্যেই ভয়াবহ মরণ রেস দেখা যায়। আর এ প্রতিযোগিতার কারণেই এ রেসের পরিণতি হয় দুর্ঘটনা।


বাসচালকদের বেপরোয়া গতিকে কোনোভাবেই যেনো থামানো যাচ্ছেনা। তারা বেপরোয়া গতিতেই গাড়ি চালাচ্ছেন। বেপরোয়া চালনায় নিয়মিত হতাহতের ঘটনা ঘটলেও বিকার নেই বাসচালকদের, এর জন্য মালিকের বেঁধে দেওয়া জমার টাকা উঠানোর তাগাদাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন চালকরা। যাদের জমা নির্দিষ্ট করা নেই তাদের কেউ বেশি ভাড়া উঠিয়ে নিজের ভাগের অঙ্ক বড় করা, আবার কেউ মালিককে সন্তুষ্ট করতে রাস্তায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।


বাসচালকদের ভাষ্য মতে, রাজধানীর বেশিরভাগ রুটের বাসের জমার টাকা মালিকরা নির্ধারণ করে দেন। আবার কিছু পরিবহন তাদের আয় হিসাব করে মোট যাত্রী পরিবহনের ওপর। সেখানেও যাত্রী বেশি তোলার জন্য মালিক পক্ষের চাপ থাকে। প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে এক বাসের সঙ্গে আরেক বাসের ঠোকাঠুকি, সংঘর্ষ নিত্যদিনের ঘটনা। 


চালকদের বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে দেশে প্রতিদিনই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মরছে মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন কেউ কেউ। সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় এখন মস্ত বড় দানবের ভূমিকায় কিছু অদক্ষ ও বেপরোয়া গাড়িচালক।


অচিরেই বেপরোয়া চালকদের লাগাম টেনে না ধরতে পারলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকবে।

আপনার মন্তব্য