বাংলাদেশ নামক মহাকাব্যের স্থপতি বঙ্গবন্ধু

10
বাংলাদেশ নামক মহাকাব্যের স্থপতি বঙ্গবন্ধু

জাতীয় ডেস্ক: স্বাধীনতার মাস ‘মার্চ’। ১৯৭১- এর এ মাসটি বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেব্রুয়ারি যেমন আমাদের ভাষার মাস, মার্চ তেমনি আমাদের স্বাধীনতার মাস। ৫২- এর একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ৭১- এর ২৬ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রতিটি দিনই ছিল সংগ্রামমুখর। 

আর ৭১- এর মার্চ মাসের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্ত ছিল বৈপ্লবিক। প্রতি বছর মার্চ মাস স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলাদেশ নামক মহাকাব্যের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা।

স্মরণ করিয়ে দেয় জাতির জনকের দূরদর্শী প্রজ্ঞা ও নির্দেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি জাতির উত্থানের কথা। মনে করিয়ে দেয় পাক হানাদারদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে, বিচ্ছিন্নতাবাদের দায় এড়িয়ে, কী করে আমরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মুক্ত করেছিলাম প্রিয় মাতৃভূমিকে সেই দিনগুলোর কথা।

এ মাসেই বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। উত্তাল একাত্তরের পুরো মার্চ মাস জুড়ে বাঙালির চোখে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন।

অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন বাঙালির জীবনে অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস। এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এর আগে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।

 মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো- ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।” 

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সাবেক রেসকোর্স ময়দান- আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া এই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারিত হতে থাকে দেশের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ঢাকাসহ গোটা দেশে উড়ছিল সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা।

২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কন্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালি নিধনযজ্ঞে নামে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে পাক হানাদাররা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে।

এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা হয়। আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা। এবার পালিত হবে স্বাধীনতার ৪৮ বছর। 

এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকে গোটা জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে বাঙালি ও বাংলাদেশ নামক মহাকাব্যের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে।

আপনার মন্তব্য