পানি কমছে পদ্মায়, তবুও শঙ্কা কাটছে না

14

রাজশাহীতে পদ্মায় পানি কমছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মা প্রবাহিত হচ্ছিলো ১৮ দশমিক ১৭ মিটার উচ্চতায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা  প্রবাহিত হয়েছে ১৮ দশমিক  ১৯ মিটারে। এটিই চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ প্রবাহের রেকর্ড।

রাজশাহীতে পদ্মায় বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। ৩ অক্টোবর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাবার পূর্বাভাস ছিলো।

কিন্তু বিপদসীমার ৩১ সেটিমিটার  নিচ থেকেই আবারো কমতে শুরু করেছে পানি।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মার বড়কুঠি পয়েন্টের গেজপাঠক এনামুল হক। 

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মায় প্রবাহিত হয়েছে ১৮ দশমিক ১৯ মিটারে। এরপর থেকে পদ্মায় প্রবাহ কমতে শুরু করেছে।

এক সেন্টিমিটার করে শুক্রবার সকাল ৬টা প্রবাহ ছিলো ১৮ দশমিক ১৮ মিটার। সকাল ৯টায় একই উচ্চতায় বইছিলো পদ্মা।

এরপর দুপুর ১২টায় আরেক সেন্টিমিটার কমে প্রবাহ দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ১৭ মিটারে। বিকেল ৩টায় একই উচ্চতায় বইছিলো পদ্মা।

উজানের ঢল কমে আসায় পদ্মায় পানি কমছে বলেও জানান গেজপাঠক।

এদিকে, পদ্মায় পানি কমলেও তা এখনো ডুবিয়ে রেখেছে পদ্মাতীরের পবা, গোদাগাড়ী, বাঘা উপজেলার নিমাঞ্চল। পানি কমতি এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তবে পানি কমতে শুরু করলে নদী ভাঙনের শঙ্কা জানিয়েছেন লোকজন। 

এদিকে, জেলার ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, অসময়ের বন্যায় পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার  ৪ হাজার ৪৪১ পরিবার। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আরো ২৪৫ পরিবার।

জেলার পবা উপজেলার সাড়ে তিন বর্গ কিলোমিটার, গোদাগাড়ীর তিন বর্গকিলোমিটার এবং বাঘার ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও চারঘাটের পদ্মা তীরবর্তী নিচু এলাকাতেও ঢুকেছে বানের পানি।

বন্যায় পবায় ৬৫ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ৪০ হেক্টর,  বাঘায় ৪০ হেক্টর এবং চারঘাটে ৭ হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার ২০ হেক্টর করে ৪০ হেক্টর ফসলি জমি।

এছাড়া পবায় তিনটি স্কুল ও দুটি মসজিদ, বাঘায় দুটি স্কুল ও ৯টি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যায় জেলার চারঘাটের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ পড়েছে হুমকির মুখে।

সবমিলিয়ে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। 

বন্যা দুর্গতের সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ৪ হাজার ১৩৩ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯২ দশমিক ৬০ টন চাল, ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ১৫২ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ বাবদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য