রাজশাহীতে চামড়ার দাম নেই, পাচারের শঙ্কা

34

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে কোরবানী পশুর চামড়ার দাম নেই। আকারভেদে গরুর চামড়া একশ’ থেকে চারশ’ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন চামড়ার দাম এটি। এই দামেও চামড়া কেনার ক্রেতা নেই। চড়া দামে চামড়া কিনে সর্বশান্ত হয়েছেন এখানকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। 

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তারা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনেছেন। কিন্তু সেই চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাচ্ছেননা। সিন্ডিকেট করে চামড়া ব্যবসায়ীরা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সংকটে ফেলেছেন।

দাম কমিয়ে কেবল মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সংকটে ফেলেননি, সংকটে ফেলেছেন এখানকার মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোকে। যারা প্রতিবছরেরমত এবারো চামড়া সংগ্রহ করে ছিলো। দাম না পাওয়ায় চরম বেকায়দায় মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো।  চামড়ার দাম না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছেন গবিব-মিসকিনরাও। 

তবে সিন্ডিকেট করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এখানকার চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পুঁজি সংকটে তারা এবার সেইভাবে কাঁচা চামড়া সংগ্রেহ করতে পারেননি। এরতে চামড়া পাচারের শঙ্কা তৈরী হয়েছে।

অতীতে চামড়া নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, এবার  চামড়ার দাম নেই বললেই চলে। চামড়া কিনে সংরক্ষণের খরচা উঠবেনা। 

মাসুদ বলেন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনে রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের ২০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আর এ জন্য এবার পুঁজি সংকটে রয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

আর এ জন্যই জেলার  ১২৭ জন চামড়া ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ৮-১০ জন চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন সাকুল্যে আড়াইশ থেকে তিনশ’ পিস করে। অথচ বিপুল পরিমাণ চামড়া রয়ে গেছে এর বাইরে।

এই ব্যবসায়ীর শঙ্কা, সংরক্ষণের অভাবে এবার বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া বাজারে দাম না পেয়ে চামড়া সীমান্ত গলিয়ে পাচার হয়ে যেতেও পারে।

তবে চামড়া পাচার ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছে রাজশাহী বিজিবি।

অন্যদিকে, চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি না করতে ব্যবসায়ীদের সর্তক করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। 

তিনি বলেছেন,  নূন্যতম নায্যমুল্য নিশ্চিত করতে চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে জেলা প্রশাসন।

আপনার মন্তব্য