রাজশাহী কলেজে সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ‘আগুনরাঙা পলাশ’

50
রাজশাহী কলেজে সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ‘আগুনরাঙা পলাশ’

মোফাজ্জল বিদ্যুৎ: রাজশাহী কলেজ। দেশ সেরায় হ্যাট্রিক করা কলেজকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। লেখা-পড়ার পাশা-পাশি কলেজে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়াও কলেজকে সৌন্দর্য মন্ডিত করতে গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে ফুলের চাষ করা হয়েছে।

কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে দৃষ্টি নন্দন কাড়ানো গাঢ় লাল-টুকটুকে ভবন । তার একটু সামনে গিয়ে হাতের ডান পাশে শহিদ মিনার। শহিদ মিনারের পাশ ঘেঁেষই রয়েছে পলাশ ফুলের গাছ। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটেছে। আর বসন্ত মানইে পলাশ ফুল।


পলাশ ফুলকে এমন কে না চেনে! চোখ জুড়ানো সবুজ বনের মাঝে পলাশ ফুলের হাসি দেখে মনে হয় সবুজের বুকে আগুন লেগেছে।অনেকেই পলাশকে পর্ণমোচী বৃক্ষ জাতীয় ফুল গাছ বলে থাকেন। পলাশের আরেক নাম ‘কিংশুক’। ইংরেজিতে বলা হয় Flame of the forest , আর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Butea monospera বুটিয়া মনোস্পার্মা।


উচ্চতা গড়ে ১২-১৫ মিটার। শাখা-প্রশাখার সামনে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। কুঁড়ি দেখতে অনেকটা বাঘের নখের মতো।বাকল ধুসর । শাখা-প্রশাখা ও কান্ড আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপতি দেখতে মান্দার গাছের পাতার মতো হলেও আকারে বড়।


শীত মৌসুমে গাছের পাতা ঝরে যায়। আর ফুল ফোটার সময় গাছ থাকে পাতা শুন্য। গাছের শাখা-প্রশাখাও নরম। ফুল শেষে ফল ধরে। ফল দেখতে অনেকটা শিমের মতো। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধমে পলাশের বংশ বিস্তার করা হয়।

সমাজকর্ম বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী পলি রাণী জানান, আমাদের কলেজ যেমন লেখা-পড়ায় এগিয়ে তেমনি সৌন্দর্যের দিকেও কমতি নেই। কলেজকে সুশোভিত ও সৌন্দর্য মন্ডিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কলেজ অধ্যক্ষ। কর্মচারী সহ কলেজ অধ্যক্ষ নিজেও গাছের পরিচর্যা করে থাকেন।

তিনি আরো জানান, শহিদ মিনারের পাশে পলাশের গাছ কলেজকে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করেছে। এতে শোভা পেয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য। পলাশ ফুল আমাদের ভাষা শহিদদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা.হবিবুর রহমান জানান,কলেজে শহিদ মিনারের পাশে দুইটি পলাশ গাছ রয়েছে। শহিদ মিনারের পাশা-পাশি কলেজকেও এই গাছ সুশোভিত করেছে। কলেজের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে আরো আটটি পলাশ গাছ লাগানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান,পলাশ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ৮ই ফাল্গুন তথা ভাষা শহিদদের কথা। সেই ফুলকে সামনে রেখে শহিদদের ভক্তিভরে বিলিয়ে দিই শ্রদ্ধাঞ্জলী।


পলাশের গন্ধ না থাকলে ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এর জুড়ি নেই। তাইতো পলাশকে দেখে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন“ রাঙ্গা হাসি রাশি-রাশি। আরো শুনতে পাই“পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফটেছে,এসেছে ফাগুন মাস”।


সৌন্দর্যর পাশা-পাশি এর ঔষধি গুণাগুণ ও রয়েছে অনেক। পলাশের বিচি থেকে দেশীয় ভেজ্যষ্য ঔষধ তৈরী করা হয় ।এক সময় পলাশ গাছের শেকড় দিয়ে মজবুত দড়ি তৈরি করা হতো। সেই সাথে পাতা দিয়ে তৈরি হতো থালা।


আজও কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই পলাশ পাতার ছোট্ট বাটিতে ফুচকা বা পানিপুরি বিক্রি করা হয়। আরো কিছু প্রজাতির পলাশ রয়েছে যেমন: Butea frondosa, Erythrina monospenma, Plaso monosenma এরকমই আরেক প্রকার পলাশ পাওয়া যায় নাম“রুদ্রপলাশ”। এটা আমাদের পরিচিত ফুল থেকে একটু ভিন্ন।

আপনার মন্তব্য