রুয়েট শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় তিন বখাটে গ্রেফতার

433

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক রাশিদুল ইসলামকে লাঞ্ছনার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে তিন বখাটে। 

সোমবার নগরীর বিভিন্ন থেকে তাদের গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।


গ্রেফতারকৃতরা হলো- নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মোসতাকের ছেলে বকুল আহমেদ (১৯), রাজপাড়া থানার আলিরমোড় এলাকার দুলালের ছেলে শাহানুর হোসেন খোকন (১৯) ও বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুলের ছেলে রিপন মন্ডল (১৮)।

গ্রেফতারের পর ওই শিক্ষক অভিযু্ক্তদের শনাক্ত করেন।

রাজশাহী নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার আবু আহাম্মদ আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন। তাই আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মামলার বাদীও এদের শনাক্ত করে গেছেন।

পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে এডিসি (ডিবি) একরামুল হকের নেতৃত্বে অভিযানে নামে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুবসহ একটি চৌকস টিম। এই টিম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন জানান, ডিবি পুলিশ তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তারা মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাবেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট ঈদের কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছিলেন রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলাম। নগরীর সাহেববাজার মনিচত্বর এলাকায় একদল বখাটে তখন তার স্ত্রীকে ধাক্কা দেন। এ সময় বখাটেদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।

এরপর রাশিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে অটোরিকশায় চড়ে বসেন। তারপরেও বখাটেরা পাশের আরেকটি অটোরিকশায় উঠে সমানে কটূক্তি করতে থাকে। শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে বখাটেরা অটোরিকশা থেকে নেমে এসে শিক্ষককে মারধর শুরু করে। ওই শিক্ষক তখন স্ত্রীর পাশে অটোরিকশায় বসে ছিলেন। মারধরের সময় সহায়তা চাইলেও আশপাশে থাকা কেউ তাকে বাঁচাতে আসেননি।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন শিক্ষক। পরে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনার ছয় দিন পর ১৬ আগস্ট ওই শিক্ষকের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আট তরুণ-তরুণীকে আসামি করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য