অসহায় বৃদ্ধের কান্না থামালেন ইউএনও

1
অসহায় বৃদ্ধের কান্না থামালেন ইউএনও

নাটোর: উপার্জনের একমাত্র সম্বল ভ্যানগাড়ি হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া অসহায় বৃদ্ধের কান্না থামালেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা দেবী পাল। নতুন ভ্যানগাড়ি কিনে বৃদ্ধের হাতে তুলে দিয়ে অসহায় ভ্যানচালকের উপার্জনের নতুন পথ তৈরি করে দিলেন তিনি।

ওই বৃদ্ধের নাম ইয়াসিন আলী (৬১)। তিনি উপজেলার মাসিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

রোববার ভ্যানচালক ইয়াসিন আলী জানান, ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। একটি চার্জার ভ্যানের উপার্জনেই চলে তার পুরো সংসার। করোনা সংকটের মধ্যেও কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি তিনি। সম্প্রতি উপজেলার মালঞ্চি বাজার এলাকায় ভ্যানগাড়িটি বাইরে রেখে মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে তার ভ্যানগাড়িটি চুরি হয়ে যায়।

নামাজ শেষে বাইরে বেরিয়ে ভ্যানগাড়িটি আর খুঁজে পাননি। উপার্জনের একমাত্র সম্বলটি হারিয়ে রাস্তার মাঝে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই সময় বিষয়টি জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসের নজরে এলে ঘটনাটি তিনি ইউএনওকে জানান।

এর পর ইউএনওর দফতরে নিয়ে গেলে সেখানেও হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন বৃদ্ধ ভ্যানচালক। পরে ইউএনও তাকে ভ্যানগাড়ি কিনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই তার কান্না থামে।

অবশেষে শনিবার তিনি নতুন একটি চার্জার ভ্যানগাড়ি বৃদ্ধের হাতে তুলে দেন।

এ নিয়ে ইউএনও তার অফিসিয়াল ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন– ‘করোনায় নয়, মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের শিকার হয়েছেন ওই বৃদ্ধ।’ ওই স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লিখেন– ‘ভালো থাকুক জীবনযুদ্ধে হার না মানা সংগ্রামী মানুষগুলো’।

এ ব্যাপারে ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, বৃদ্ধ বয়সে ভ্যান চালিয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকা মানুষটির ভ্যানগাড়িটি চুরি হয়। তার শ্রমকে সম্মান জানিয়ে তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চার্জার ভ্যানগাড়ি কিনে দেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য