করোনা জয় করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেন নার্স

20
করোনা জয় করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেন নার্স

বগুড়া: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সেবা করতে গিয়ে নিজেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। এরপর থাকতে হয়েছে নিজ হাসপাতালের আইসোলেশনে। চিকিৎসার পাশাপাশি সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহস ও শক্তি পেয়েছেন তিনি। করোনা জয় করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর নাম শাহানারা বেগম। তিনি বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের স্টাফ নার্স।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ৪ মে শাহানারাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে হাসিমুখে বাসায় ফেরেন তিনি।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিক আমিন বলেন, আইসোলেশন কেন্দ্র চালুর পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের শাহানারা বেগম সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ২৬ এপ্রিল তাঁরও করোনাভাইরাসে সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। ১ মে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন তিনি। ৪ মে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে আসা প্রতিবেদনে তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন। ওই দিনই তাঁকে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়।

করোনাজয়ী শাহানারা বেগম বলেন, কোভিড–১৯ রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁর দায়িত্ব পড়ে। প্রতিদিন অনেক রোগীর সংস্পর্শে আসতে হয়। তাই শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন তিনি। কিন্তু এপ্রিলের শেষ দিকে হালকা জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। তাঁর সন্দেহ বাড়ে। ২৬ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ৪ মে জানতে পারেন তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আছে। ওই দিনই আইসোলেশনে ভর্তি হন তিনি।

শাহানারা বেগম বলেন, ‘আইসোলেশনে থাকার সময় স্যারেরা (চিকিৎসক) সব সময় সাহস দিয়েছেন। সহকর্মীরাও (নার্স) অভয় দিয়েছেন। বলেছেন, কোনোভাবেই মনোবল হারানো যাবে না। মানসিক দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। মনে সাহস রাখতে হবে। সচেতন ও সর্তক থাকতে হবে। সবার কাছে কৃতজ্ঞ আমি।’

আরএমও শফিক আমিন বলেন, বগুড়া জেলায় শনিবার পর্যন্ত ৭৫ জন কোভিড–১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এই হাসপাতালের আইসোলেশনের একজন চিকিসক ও নার্স আছেন। আইসোলেশনে এ পর্যন্ত ২০ জন কোভিড–১৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, অন্যরাও সুস্থ হয়ে উঠবেন।

আপনার মন্তব্য