গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে বিয়ে করেও পার পেলেননা ধর্ষক

207


পাবনায়: গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে বিয়ে করেও পার পেলেননা ধর্ষণকাণ্ডের হোতা রাসেল হোসেন।

ওই গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। 

এর আগে সোমবার বিকেলের দিকে থানায় এই মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। ওই মামলায় প্রধান আসামী করা হয় রাসেল হোসেনকে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার বিকেলে পাঁচ জনের নামে ভিকটিম অভিযোগ করলে রাতেই মামলা নথিভুক্ত হয়। মামলার নম্বর ৩৪। 

মামলার আসামিরা হলো রাসেল, ঘন্টু, হোসেন আলী, ওসমান ও সঞ্জু।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলামে আরো জানান, ‘থানায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাসেলকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) তাকে আদালতে তোলা হবে।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের মা ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে।

 দুই দিন পর (৩১ আগস্ট) তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। 

বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

এদিকে পুলিশ প্রথমে রাসেলকে আটক করে। আর ওই নারীর রিকশাচালক স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতেই এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এস আই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা শুনেছেন রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সদর থানার ওসিকে শোকজ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরে সোমবার বিকালে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য