জামালপুর থেকে যমুনায় ভেসে বগুড়ায় ছয় বছরের মমতা

76

বগুড়া: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ ছয় বছরের শিশুকন্যা  মমতা খাতুনকে পাওয়া গেছে বগুড়ায়।

সারারাত নদীতে ভেসে ভেসে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পৌঁছেছে সে। এই দীর্ঘ সময় তার বেঁচে থাকা অলৌকিক বলছেন লোকজন।

 সে সায়িয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। নৌকাডুবির পর কীভাবে সে এতদূর এলো তা মমতা  নিজেই জানেনা। সে শুধু থৈ থৈ পানি দেখেছে। 

এ নিয়ে এলাকাবাসী বলছে শিশুটি আসলে যমুনাকন্যা। মমতা খাতুনের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর হলকা গ্রামে। তার বাবার নাম ময়েন উদ্দিন।

জানা যায়, বুধবার দেওয়ানগঞ্জের চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন থেকে বেশ কয়েকজন ত্রাণের চাল নিয়ে হলকা হাওড়াবাড়ী এলাকায় যাচ্ছিলেন নৌকা নিয়ে। 

পথে রাত ৮টার দিকে নদীপথে টিনের চরের কাছে পৌঁছালে মাঝ নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়। ওই নৌকায় ছিল শিশু মমতা খাতুন।

মমতা উত্তাল যমুনা নদীর পানিতে ভাসতে ভাসতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুমারি চরে আটকে পড়ে থাকে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এলাকাবাসী তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে সায়িয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ আল আমিন জানান, প্রায় ৫০ কিলোমিটার নদীপথে শিশুটি রাতের আঁধারে সারিয়াকান্দির ঘুঘুমারি চরে এসে পৌঁছায়। কীভাবে সে ভেসে ভেসে এতদূরে এলো সেটি জানা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, মমতা খাতুনের বাবা-মাকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এসে শিশুটিকে নিয়ে যাবেন।

সায়িয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. উত্তম কুমার রায় ও সিনিয়র স্টাফ নার্স উম্মে হানি জানান, নদীপথে ভেসে আসা শিশুটি আগের থেকে বেশ ভালো আছে। 

সে তার পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারছে। তার এক চাচা এসেছেন। শিশুটি কথাও বলছে।

আপনার মন্তব্য