তদবিরেও ছাড়া পেলেন না ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক

97

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: তদবির করেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটকের পর তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান।

অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান উজ্জল ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার জাহান শুভ।

তাদের গন্তব্য এখন শ্রীঘরে। চাাঁদাবাজির মামলায় শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, গত বুধবার রাতে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও নাচোল মাঠপাড়ার এ কে এম ফজলুল হক ওরফে সাধু মাস্টারের ছেলে সারোয়ার জাহান শুভ নাচোল অটোরিকশা-সিএনজির চেইন মাস্টার মুকুলের কাছে মোবাইল ফোনে ৫ হাজার টাকার চাঁদা দাবি করেন। এ সময় মুকুল চাঁদা দিতে রাজি না হলে পরদিন দেখে নেয়ার হুমকি দেন শুভ।

পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে নাচোল বাসস্ট্যান্ড মোড়ের রহনপুর সড়কে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার জাহান শুভর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে রহনপুর রোডের মৃত মুসা বিশ্বাসের বাড়ির সামনে চেইন মাস্টার রবিউল ইসলাম রবুর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। 

এ সময় তিনি চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। লাঠির আঘাতে রবু আহত হয়ে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ঘটনার পর অটোরিকশা সমিতির লোকজন বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালুর কাছে যায়। এ সময় তিনি থানায় অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

নাচোল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, এ ঘটনায় রবু বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে চারজন বিবাদীর নামসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮/৯ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নাচোল থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান উজ্জল ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার জাহান শুভকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে, দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের খবর পেয়ে নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ও ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাবু থানায় উপস্থিত হয়ে ওসির কাছে জোর তদবির করেন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। শুক্রবার দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য