‘নেশাখোর’ আওয়ামী লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

339
‘নেশাখোর’ আওয়ামী লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান। সম্প্রতি তার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এনিয়ে সর্বত্রই বইছে সমালোচনার ঝড়।

Posted by BarendraExpress.com.bd on Tuesday, October 8, 2019

বগুড়া: দীর্ঘদিন ধরেই  মাদকাসক্ত বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান।

এনিয়ে কানাঘোঁষা হলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেন নি। তবে সম্প্রতি তার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এনিয়ে সর্বত্রই বইছে সমালোচনার ঝড়।

ভাইরাল এই ভিডিও চিত্রে আয়েশি ভঙ্গিতে সহযোগীদের নিয়ে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে আলোচিত নেতা আনিছুর রহমানকে।

জানা গেছে, বরাবর জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা আনিছুর রহমান ২০১২ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর ৯ মাসের মধ্যেই পেয়ে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। আর পদ পেয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আনিছুর। 

এলাকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবনকে দৈনন্দিন কাজের অংশ বানিয়ে নেন। আর শুরু থেকেই সহযোগী হিসেবে পেয়ে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা শেখ শামীম ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আফতাব হোসেনকে। 

তারা কখনো নিজ বাড়িতে, কখনো নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আবার কখনো বগুড়া শহরের বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করে মাদক সেবন করেন।

তিন মিনিট আট সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত আনিছুর রহমান ইয়াবা সেবন করছেন। পাশে বসে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন সহযোগীরা। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর চায়ের স্টল থেকে শুরু করে অফিসপাড়া পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমানের মাদক সেবনের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এর আগেও আনিছুর রহমানের ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের ছবিসহ পোস্টার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে দেখা গেছে। 

পোস্টারে লেখা ছিল—‘আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান শুধু মাদকসেবীই নয়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। অবিলম্বে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হোক। 

পাশাপাশি এ মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।—প্রচারে নন্দীগ্রাম উপজেলার আওয়ামী লীগপ্রেমী ত্যাগী নেতাকর্মীবৃন্দ।’ 

এবার ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর নেতাকর্মীদের সেই ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক সমিতি নিয়ন্ত্রণ করেন আনিছুর রহমান। সেখানে প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়, যার একটি অংশ নিয়মিত পেয়ে যান তিনি। এ ছাড়া অটোটেম্পো মালিক সমিতিসহ হাট-বাজার, রাস্তা ও ফুটপাটের চাঁদাবাজিও তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার সিমলা গ্রামে আনিছুর রহমানের জন্মস্থান। আগে সম্পদ বলতে ছিল শুধু মাটির বাড়ি। বর্তমানে এই নেতা সিমলা বাজারে নির্মাণ করেছেন তিনতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন। এর বাইরে গ্রামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির টাকায় নিজস্ব জমিসহ পুকুর করেছেন।

আনিছুরের ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। অন্য ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি সরকারের সময়ও উপজেলার বিভিন্ন পুকুর ক্ষমতাবলে দখল করে রেখেছিলেন আনিছুর রহমান।

নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ এ ব্যাপারে বলেন, “দলের মানসম্মান বলে আর কিছু থাকল না। তিনি সব সময় ইয়াবায় মত্ত থাকেন। এ কারণে এলাকায় এই নেতার নাম ‘বাবা আনিছ’।

 তিনি নিজে মাদক সেবন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মাদকের কারবার চালান। বিগত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করায় তাঁর বিরুদ্ধে আমি কেন্দ্র ও জেলায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অভিযুক্ত আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। কখনো মাদক সেবন করি না। কেউ আমার মাথা জোড়া দিয়ে ভিডিও বানিয়েছে। আমি দলে নব্য হলেও মাদকের কারবার কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। আর উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর বিরোধিতাও করিনি।’

নন্দীগ্রাম থানার ওসি শতকত কবির বলেন, ‘শুনেছি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মাদক সেবন করেন। তবে কখনো নিজে এমনটা দেখিনি। আর তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগও পাইনি।’

আপনার মন্তব্য