বগুড়ায় ২৩ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত

5
যে কারণে করোনা জয়ে এখনো এগিয়ে পুলিশ

বগুড়া: করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যারা সরাসরি মাঠে লড়াই করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্য বগুড়ায় একের পর এক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রোববার সকাল পর্যন্ত এ জেলায় মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্যের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

২৩ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২১ জন বগুড়া জেলার এবং অপর দুজনের বাড়ি বগুড়া হলেও তাদের কর্মস্থল অন্য শহরে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একজন সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন। তিনি হলেন-ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল ও আদমদীঘি উপজেলার শাঁওইল গ্রামের বাসিন্দা আহসান হাবীব।

বগুড়ায় করোনাভাইরাস শনাক্ত প্রথম রোগী কনস্টেবল আহসান হাবীব। গত ১৫ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হন। ওইদিন রাতেই তাকে করোনার জন্য বিশেষায়িত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর কয়েকদিন পরই তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

এরপর বগুড়ায় একের পর এক পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার বগুড়ায় একসঙ্গে ১২ জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হন। আক্রান্ত সদস্যরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গোয়েন্দা শাখা, আদালত এবং পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। তাদের জেলা পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, করোনা আক্রান্ত ২৩ জন পুলিশের মধ্যে ২১ জনই বগুড়া জেলার, বাকি দুজন ঢাকায় কর্মরত। বগুড়ায় আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টর, দুজন এএসআই এবং ১৮ জন কনস্টেবল রয়েছেন। অপর দুজন ঢাকার। তাদের একজন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল এবং অপরজন এসআই।

একের পর এক পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, করোনাভাইরাস একটি জাতীয় দুর্যোগ। এই দুর্যোগকে মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশের যারা মাঠে কাজ করছেন, তাদের পাশাপাশি কর্মকর্তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

কিন্তু এতে করে তাদের কারও মনোবল নষ্ট হয়নি বলে জানান সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘মানসিকভাবে সবাই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও মানসিক শক্তি প্রবল। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।’

‘একজন পুলিশ সদস্য যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্থ থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত করোনার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতার লড়াই চালিয়ে যাবেন’ যোগ করেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

আপনার মন্তব্য