ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১০০ মণ ভেজাল গুড় জব্দ

2

পাবনা: পাবনায় ভেজাল গুড়ের জমজমাট ব্যবসা চলছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল গুড় তৈরির অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছে। সারা বছর এই ভেজাল গুড়ের ব্যবসা চললেও রমজান মাসে আরও বেশি হচ্ছে। আর রোজাদাররা ইফতারে এই ভেজাল গুড়ের সরবত দিয়ে তেষ্টা মিটাচ্ছেন। পাবনার চাটমোহরের একটি ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি ও বিক্রির অপরাধে তিন গুড় ব্যবসায়ীকে আটকের পর জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এবং অমৃতকুন্ডা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় এবং গুড় তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন বাহাদুরপুর গ্রামের আবদুস সালাম। গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এ সময় সেখান থেকে ভেজাল গুড় এবং গুড় তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভেজাল গুড় তৈরির অপরাধে আবদুস সালামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তিনি জরিমানার টাকা দিয়ে মুক্ত হন।

এরপর উপজেলার অমৃতকুন্ডা হাটে অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড় বিক্রির সময় দুই গুড় ব্যবসায়ী শাহপুর গ্রামের সৈয়দ আলী এবং বালুদিয়ার গ্রামের আনু মন্ডলকে আটক করা হয়। পরে সৈয়দ আলীর কাছ থেকে ৫ হাজার ও আনু মন্ডলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে ভেজাল গুড় ১০০ মণ, ভেজাল গুড় তৈরির উপকরণ ফিটকিরি ১০ কেজি, চিনি ৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজির), ক্ষতিকর রং এক কেজি, চুন ১০ কেজি জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

এদিকে চাটমোহর ছাড়াও জেলার বেড়া, সুজানগর, ফরিদপুর এবং ঈশ্বরদীতে এই ভেজাল গুড়ের অসংখ্য কারখানা রয়েছে। সারা বছরই এসব ভেজাল গুড়ের ব্যবসা চলে। কিন্ত বরাবরই এসব ভেজাল ব্যবসায়ীরা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আপনার মন্তব্য