সুজানগরে বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উদযাপন কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

17
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো চাচা-ভাতিজার

পাবনা: পাবনার সুজানগরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে হামলা ও বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের বিরাহীমপুর মীর্জা আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ওরফে বাবু এবং আব্দুল বারেকের নেতৃতে তাদের সমর্থকরা সভা মঞ্চ ভাঙচুর ও সিনিয়র নেতাদের লাঞ্ছিত করেন।

ওই সভায় স্থানীয় এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুজানগর পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব উপস্থিত ছিলেন। বাবুর নেতৃত্বে হামলাকারীরা পৌর মেয়র ওহাবকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে এমপি ও পৌর মেয়র পুলিশ ও অন্য নেতাকর্মীদের সহায়তায় স্থান ত্যাগ করেন।

এরই জের ধরে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাবু গ্রুপ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়রের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রশিদ গ্রুপের প্রধান রশিদ ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধরক মারপিট করে। এতে রশিদসহ ৬ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় সময় হামলাকারীরা রশিদ, মজিদসহ ৭ নেতাকর্মী সমর্থকের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায় বলেও মজিদের স্ত্রী আফরোজা খাতুন অভিযোগ করেন।

আ.লীগ নেতা বাবু অভিরেযাগ অস্বীকার করে বলেন, আমি হামলা করি নাই। রশিদ গ্রুপের লোকজন হামলা চালিয়ে আমার ৪ জন লোককে মারপিট দিয়ে আহত করেছে।

আমিনপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সুজানগর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, বাবু ও বারেকের নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। রশিদের লোকজন আহত হয়েছে। তাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। কিন্ত বিষয়টি উল্টো রশিদ গ্রুপের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দু’দিনের ঘটনার জের ধরে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম,পিপিএম বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তদন্তে যেই বা যারা দোষী হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন সেখানে পরিস্তিতি শান্ত।

আপনার মন্তব্য