স্কুলমাঠ পুকুর বানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মাছচাষ

1881
স্কুলমাঠ পুকুর বানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মাছচাষ

সিরাজগঞ্জ: স্কুলমাঠ দখলে নিয়ে পুকুর বানিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা  মাছচাষে নেমেছেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার একটি ক্লাবের নামে গ্রামের স্কুল মাঠ দখল করে মাছ চাষ করছেন তিনি। এতে ক্ষোভ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 জানা গেছে, বর্ষার শুরুতেই এ স্কুল মাঠে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করায় একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও একটি বেসরকারি হাই স্কুলের ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী এ মাঠে কোনো প্রকার খেলাধুলা করতে পারছে না। 

তবে ওই ইউপি সদস্য জানান, মাঠের চারপাশে রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় রাস্তা উপচিয়ে খেলার মাঠে বর্ষার পানি ঢুকে পড়ে। মাঠের পাশে আমার একটি খাল রয়েছে। খালের মাছ মাঠে ঢুকে পড়ায় এখানেও কিছু মাছ চাষ ছেড়েছি। 

মাঠের মাছ বিক্রি করে লাভের একটি অংশ ক্লাবের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া কিছু মাছ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে খাওয়ার জন্য দেওয়া হয়। 

তিনি আরো বলেন,  বিষয়টি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করেই করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কায়েমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) ও কায়েমপুর তরুণ সংঘের সভাপতি ইকবাল হোসেন বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া খেলার মাঠটিতে অন্যায়ভাবে তরুণ সংঘ নামে মাছ চাষ করছে। মাছ বিক্রি করে যে আয় হয় তা ক্লাবের লোকজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। 

কায়েমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসিবুল হক হাসান জানান, কায়েমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের খেলার মাঠের বন্যার পানিতে ঘের দিয়ে কায়েমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল হোসেন মাছ চাষ করছেন। মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে কি হয় তা আমার জানা নেই। 

কায়েমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. তানজিলা চৌধুরী জানান, তার বিদ্যালয়ের পাশের খেলার মাঠটি তাদের সম্পতি না। তাই তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। 

মাঠটির পাশের কায়েমপুর মাস্টার আজগর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. হাফিজা পারভীন জানান, মাঠটি তাদের। এখানে পাশের প্রাইমারি স্কুলের ছেলেমেয়েরা নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নিয়ে থাকে। 

বর্ষায় মাঠে মাছ চাষের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি মেম্বার ইকবাল তার প্রভাব খাটিয়ে খেলার মাঠে মাছ চাষ করছেন। আমরা আপত্তিতে কোনো কাজ হয়নি। 

এখান থেকে আমি বা আমার স্কুলের কোনে শিক্ষক মাছ বা আর্থিক সুবিধা নেন না। যদি কেউ কিছু বলে থাকেন তা ভুল বলেছেন। 

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  জায়গা যিনি দান করেছেন স্কুল মাঠটি তার দেওয়া জায়গা।

 মাঠে মাছ চাষ হচ্ছে তা আমাকে আগে অবগত করা হয়নি। জানলে আগেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। 

শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্ষায় মাঠের পানি সরবরাহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছ চাষের ঘটনা আমাকে কেউ বলেননি। তিনিও বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি। 

জানা গেছে, ওই খেলার মাঠে কয়েকদিন আগে এক সন্ধ্যায় হাঁস খুঁজতে গিয়ে মাঠের মধ্যে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে এক সন্তানের জননী গৃহবধূ ইসমত আরা (৩০) নিহত হন। 

ইসমত আরা কায়েকপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি জয়নাল প্রামাণিক কালুর স্ত্রী। এ ঘটনায় পরদিন নিহতর স্বামী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেন। 

আপনার মন্তব্য