দেশে ফিরেও করোনাযুদ্ধে কাজী পরাগ

5
দেশে ফিরেও করোনাযুদ্ধে কাজী পরাগ

সালমান শাকিল: কাজী পরাগ চীনে করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে পরিবারের দুশ্চিন্তা আর বার বার তাগাদায় চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা ল্যাব ফেলে দেশে ফিরতে হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থীকে। তিনি দেশে ফিরেছেন গত ৫ ফেব্রুয়ারি।

তবে দেশে ফিরে বসে থাকেননি পরাগ। দেশে যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং নতুন নতুন ল্যাবের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে তখনই মলিকুলার বায়োলজিস্ট বন্ধু ও সহপাঠীদেরকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সামনে এগিয়ে এসেছেন। ঝুঁকি জেনেও করোনা পরীক্ষায় ব্যবহৃত রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয়া থেকে শুরু করে করোনা পরীক্ষার কাজ করে চলছেন। যার পুরোটাই স্বেচ্ছাশ্রম।

শুধু কাজী পরাগ নন, মলিকুলার বায়োলোজিতে দক্ষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা কিছু চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুদ্ধ করে চলছেন করোনার সঙ্গে।

তাদেরই একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রওশন আলী অয়ন। অয়ন জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব থেকে শুরু হয় তাদের কাজ। পরবর্তীতে রংপুর সিএমএইচ, বগুড়া সিএমএইচ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং এখন নোয়াখালী মেডিকেল কলেজসহ দেশের আটটি ল্যাবের সঙ্গে কাজ করছেন তারা।

অয়ন বলেন, আমাদের দেশের ডাক্তার এবং ল্যাব টেকনোলজিস্টরা কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন ব্যবহার করছেন। এই টেকনোলজি বা এর জন্য যে মলিকুলার বায়োলজির জ্ঞান প্রয়োজন তা তাদের নেই। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং ল্যাবে তাদের সঙ্গে কাজ করে তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষক কাজী পরাগ বলেন, একটা নতুন ল্যাবে কাজ শুরু হওয়া মানে নতুন করে এর কিছু টেস্টের সংখ্যা বাড়া। মূলত টেস্টের সংখ্যা বাড়লে আমারা দ্রুত করোনার এই সমস্যা টা সমাধান করতে পারবো।

ঝুঁকি জেনেও কেন আসছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে যে পড়ালেখা আমি দেশে এবং বাইরে শিখেছি সেটা আমার দেশের জন্য কাজে লাগাতে হবে।

প্রথমে পরিবার সাপোর্ট করতো না এই শিক্ষার্থীদের। বিশেষত কাজী পরাগের মা কোনোভাবেই এই রিস্কি কাজে আসার অনুমতি দিতে চাননি।

কাজী পরাগ বলেন, শুধু মাকে একটা কথা বলতাম যে আমাদের এখন দেশের প্রয়োজন। মা এখন আগের মতো টেনশন করেন না। উনি প্রতিদিন আমাকে এখন অনুপ্রেরণা দেন।

এদিকে কিছু স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত আছেন এই স্বেচ্ছাসেবক দলের জন্য। পর্তুগালের লিসবন ইউনিভার্সিটির জহুরুল ইসলাম মুন, চীনের হুয়াজং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দম্পতি সামিউল ইসলাম ও রাজিয়া সুলতানা মৌসহ আরও পাঁচজন গবেষক প্রস্তুত আছেন সেবা দেয়ার জন্য।

এছাড়া বিভিন্ন ল্যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো বিদেশি গবেষক ড. রিচার্ড মারলোসহ ৫০ এর অধিক সেচ্ছাসেবক দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন

আপনার মন্তব্য