দেশ সেরা কলেজে শুভ্রতার প্রতীক ফুটন্ত পদ্ম’র হাসি

40

মোফাজ্জল বিদ্যুৎ : টানা চতুর্থবারের মতো দেশ সেরা রাজশাহী কলেজ। কলেজের দৃষ্টিনন্দন ভবন আর চোখ জুঁড়ানো ক্যাম্পাস মন কাড়ে যে কারো । আর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে জুড়ি নেই কলেজের পুকুরে সদ্য ফুটন্ত সাদা পদ্ম’র । রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনের পেছনে পুকুরের পাড় সংলগ্ন অগভীর পানিতে সেই সদ্য ফটন্ত পদ্ম’র চোখ জুড়ানো হাসির দেখা মিললো।

কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং দর্শনার্থীকেও বিমোহিত করেছে ফুটন্ত সাদা পদ্ম । পুকুর ভরা সদ্য ফুটন্ত পদ্ম যেমন একদিকে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরে মাঝেও আগ্রহের কমতি নেই । ক্লাসের বিরতি বা ছুটি শেষে পদ্মরাজির হাসি দেখতে অনেকেই ভিড় জমান পুকুর পাড়ে ।

এ সময় পদ্ম’র স্পর্শে ছবি বা সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থীকে । আর সেই ছবি শোভা পাচ্ছে ফেসবুক প্রোফাইলে । এছাড়া শুভ্রতার প্রতীক সাদা ফুটন্ত পদ্মকে নিয়ে কবি, সাহিত্যিক ও প্রকৃতিপ্রেমীদেরও কৌতুহলের শেষ নেই। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nelumbo nucifera. কমল, শতদল, সহস্রদল, উতপল, মৃণাল, পঙ্কজ, অব্দসহ পদ্ম’র রয়েছে বিভিন্ন নাম ।

হাওর-ঝিলবিল বা পুকুরে বিভিন্ন ফুলের ন্যায় শুভ্রতার প্রতীক সাদা পদ্ম ফুল ফুটে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এর ফুল ও ফল পরিস্ফোটিত হয় । সরু কাটা ভরা পদ্ম চাকটি দেখতে অনেকটা সবুজ ও হলদেটে । এর ভিতরে রয়েছে বীজ বা বোটা । পদ্ম’র রয়েছে ঔষধি গুণাগুণ । এর ভিতরে থাকা বীজ বা বোটা আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের উপকারি । ঔষধি গুণ ছাড়াও পদ্ম চাক ও বীজ বা বোটা সুস্বাদু খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।

দর্শন বিভাগের তয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইন্দিরা ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে পুকুর পাড়ের ফুটন্ত পদ্ম । শিক্ষক,শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা, কর্মচারি, দর্শনার্থী পুকুরের পাশ দিয়ে যেতে একবার হলেও থমকে দাড়ায়।

দেশ সেরা রাজশাহী কলেজ পুকুরে পরিস্ফোটিত পদ্ম

বন্ধুরা মিলে ক্লাস বিরতি বা ছুটি পেলে ফুটন্ত পদ্ম’র সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসি। মৃদুমন্দ বাতাসে সাদা ফটুন্ত পদ্ম’র হাসিতে মূহুর্তের জন্য হলেও কোন এক ভিন্ন জগতে প্রবেশ করি বলে জানায় ওই শিক্ষার্থী।

বিপুপ্তির পথে এই পদ্মকে সংরক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম জানান, পদ্ম ফুল আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে । পুকুর বা জলাশয়ে সেখানে কোনো মাছ চাষ করা যাবে না । মাছ চাষ করলে পদ্ম বা আরো জলজ উদ্ভিদের ক্ষতি সাধন হয় ।

বিশেষ করে তেলাপিয়া বা নাইলোনটিকা মাছ পদ্ম বা জলজ উদ্ভিদের জন্য হুমকিদায়ক। আর পুকুরের পাড়ও সংরক্ষণ করা যাবে না। জলাশয় এবং পুকুরের পাড়কে প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখতে হবে বলে জানান উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের এই অধ্যাপক ।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. হবিবুর রহমান জানান, পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য যে কাউকে বিমোহিত করবে। পদ্ম’র সাথে আমার ছোট বেলার স্মৃতি জড়িত । পদ্ম শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। শাপলা ফুল দেখা গেলেও গ্রাম-গঞ্জ থেকে পদ্ম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এজন্য গত বছর তানোর থেকে ১৫ টা পদ্ম কলেজের পুকুরে লাগিয়েছিলাম। বর্তমানে তিনটি পদ্ময় পুরো পুকুর ছেঁয়ে গেছে।

বিপুপ্তির পথে এই পদ্ম সংরক্ষণের ব্যাপারে তিনি জানান, পুকুরের পানি কোনো মতে শুকাতে দেওয়া যাবে না। এছাড়া রাক্ষুশে মাছ চাষ করাও যাবে না । পুকুর পাড়ের একধার শান দিয়ে বাধাই করা হয়েছে । কিন্তু অপর পাড় প্রাকৃতিকভাবে রাখা হয়েছে। কেননা এতে কিছু পোকা থাকে যা জলজ উদ্ভিদ জন্মাতে সাহায্য করে।

কলেজ ক্যাম্পাসের এই সৌন্দর্য বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ক্যাম্পাসে যেন কোন শিক্ষার্থী পদ্ম ফুলসহ অন্য কোন ফুল না ছিড়ে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বজায় রাখার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই।

রাজশাহী কলেজ মরা পুকুরের যে সৌন্দর্য বর্ধন আমরা করেছি সেটা যেন অক্ষুন্ন থাকে এটাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান বলে জানান অধ্যক্ষ । সৃষ্টিগত থেকেই ফুলের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের অমোঘ বন্ধন । তাই ফুলের জাদুকরী বৈশিষ্ট্য মানুষকে সহসাই কাছে টানে।

আপনার মন্তব্য