রাবির সেই বাগানের লিচু পেড়ে নিয়ে গেল ছাত্রলীগ

23
রাবির সেই বাগানের লিচুন পেড়ে নিয়ে গেল ছাত্রলীগ

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে মারধরের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোদাগাড়ী লিচু বাগানের প্রায় সবগুলো গাছের লিচু সাবাড় করে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

ৎবৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের পেছনের গোদাগাড়ী বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যেমকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা সহ-সম্পাদক মনির দূর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই বাগানের লিজ নেওয়া আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা এক লক্ষ বায়ান্ন হাজার টাকায় লিচু বাগানটি ইজারা নিয়েছি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের আট জন নেতাকর্মী বাগানে এসে আমাদের দুই প্রহরীকে বেঁধে রেখে গাছ থেকে লিচু নামায়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।

আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় তাদের দুজন গাছ থেকে পড়ে যায়। তখন আমরা তাদের দুজনকে ধরে মেরেছিলাম।

তিনি আরও জানান, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিব এবং সব টাকা ফেরত চাইব।

জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা মনিরসহ বিভিন্ন হলের বিশ-ত্রিশজন নেতাকর্মী বাগানের বিভিন্ন গাছ থেকে লিচু নামাচ্ছিলেন।

তখন গণমাধ্যেমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মনিরের নাম জানতে চাইলে মনির দুর্ব্যবহার করেন এবং তেড়ে আসেন এবং তুই-তুকারি করেন।

পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা সাংবাদিককে লিচু খাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তারা নিজেদেরকে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে ছাত্রলীগ নেতা মনিরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনার পর বাগান মালিক পলাতক রয়েছে।

এখন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের মতো করে বাগানের লিচু পেড়ে খাচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লিচু খাচ্ছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সেটা বলতে পারবো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, শুনেছি ছাত্রলীগ সব লিচু পেড়ে নিয়েছে। লিজ নেওয়া মালিককে টাকা ফেরত দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এটা যেহেতু কৃষি প্রকল্প লিজ দেয় তারাই বিষয়টা দেখবেন।

কৃষি প্রকল্পের প্রধান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এমরান আলীর মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের পিছনে রাতে লিচু পাড়তে যায় ছাত্রলীগ নেতা কানন ও মেহেদীসহ বেশ কয়েকজন।

এসময় তাদেরকে বাগানটি পাহারার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাদেরকে লিচু পাড়তে বাধা দেন। তখন তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে স্থানীয় ওই যুবকেরা। এতে ছাত্রলীগ নেতা কাননের দুই হাত ভেঙ্গে যায় ও মেহেদীর পায়ে গুরুতর জখম হয়।

এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় ৬জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতানামাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন।

আরও পড়ুন:

লিচু পাড়া নিয়ে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে মারল স্থানীয়রা

আপনার মন্তব্য