রাবির হলে সাংবাদিকের সিট দখলে নিলেন ছাত্রলীগ নেতা

8

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক সাংবাদিককে হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে সিট দখলে নিয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম সাকিবুল হাসান। আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাবিকুল এশিয়ান এজের রাবি প্রতিনিধি।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার মিনহাজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, হবিবুর রহমান হলে ২২৪ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পায় সে। পরে সোমবার রাত ৯টার দিকে বরাদ্দকৃত সিটে উঠতে গেলে মিনহাজসহ হল ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী বাধা দেয়। 

জোরপূর্বক সিট থেকে তার জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে সিট দখলে নেন মিনহাজ। এ সময় সাকিবকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হল থেকে বের করে দেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। 

একপর্যায়ে বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষকে জানালে মিনহাজ ভুক্তভোগী সাংবাদিককে মারতে উদ্যত হন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলে এসে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে বৈঠকে বসেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তারা ওই সিট দখলে রেখে চলে যান।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘২২৪ নম্বর কক্ষে একটি সিট খালি হওয়ায় আমি আমার এক ছোট ভাইকে নিয়ে ওই কক্ষে যাই। পরে জানতে পারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এক শিক্ষার্থীকে ওই কক্ষে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে ওই কক্ষে আমার যাওয়া উচিত হয়নি।

এদিকে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৩৪৭ নম্বর কক্ষে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে হল প্রশাসন সিটে তুলে দেয়। 

পরে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান সাকিল জোরপূর্বক তাকে সিট থেকে নামিয়ে দেন। এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ তার কাছে জানতে চাইলে সাকিল হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা করে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সিনিয়র নেতাদের রেখে জুনিয়রদের দিয়ে হলগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা বেপরোয়া আচরণ করছে। 

শুধু সাধারণ শিক্ষার্থী নয়, ছাত্রলীগের অনেক নেতাকে তারা হল থেকে বের করে দিয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে তারা একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করছে। অথচ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।’

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘হলের প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। আপনারা প্রাধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’

হল প্রাধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছি। সাংবাদিকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ এরকম করে থাকে তাহলে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, বিষয়টি মীমাংসা করা হয়নি। ছাত্রলীগ তার সিট এখনো দখলে রেখেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে আমি বিষয়টি শুনলাম। কিবরিয়া-রুনুর (রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। হল প্রাধ্যক্ষ্যের সঙ্গে কথা বলে কি করা যায় দেখছি।’

বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘হলের দায়িত্বে আমি নেই। 

ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বেশ কয়েকটি কাজ হাতে নিয়েছি। এগুলো করা আমার কাজ, এর বাইরে কোনো কিছু করার এখতিয়ার আমার নেই।’

আপনার মন্তব্য