রাবি উপাচার্যসহ ৬ জনকে সাবেক শিক্ষার্থীর লিগ্যাল নোটিশ

15
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরে শিক্ষক অবরুদ্ধ


স্টাফ রিপোর্টার, রাবি: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে সাবেক এক শিক্ষার্থী।

আচার্যর অনুমতি ছাড়া উপাচার্যের পদ থেকে নিজ বিভাগে যোগদান, আরেকজনকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া, নিজ সম্পর্কিত বিষয়ে নিজেই সিন্ডিকেটের সভাপতিত্ব করাসহ কয়েকটি অভিযোগ এনে এই নোটিশ দেয়া হয়।

বিশ^বিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের প্রশাসক ড. শাহিন জোহরা নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, বিশ^বিদ্যালয় উপাচার্য এখনও অফিসিয়ালি নোটিশের প্রধান কপি গ্রহণ করেননি।

কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সালমান ফিরোজ ফয়সাল এর পক্ষে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম রাবি উপাচার্য, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচীবসহ ৬ জনকে নোটিশ প্রেরণ করেন।

নোটিশ প্রাপ্তদের মধ্যে ১ নং হলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান। বাকিরা হলেন- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচীব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচীব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচীব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি (বর্তমানে বিলুপ্ত বিভাগ)।

নোটিশে বলা হয়, আমার উপরোল্লিখিত মক্কেল রাজশাহী বিশ^বদ্যালয় এর কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র। তিনি অত্র বিশ^বিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং আছেন। আমার মক্কেলের নিকট থেকে বিস্তারিত তথ্য অবগত হয়ে এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে উল্লেখিত নোটিশ গ্রহিতাগণকে এই মর্মে লিগাল নোটিশ প্রদান করছি যে,

১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয়ের আচার্য বিগত ০৭.০৫.২০১৭ইং তারিখে ৪ (চার) বছরের জন্য রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ১নং নোটিশ গ্রহিতাকে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ প্রদান করেন এবং ঐদিনই ১নং নোটিশ গ্রহিতা উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।

২. কিন্তু ১নং নোটিশ গ্রহিতা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ও আচার্য এর পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে গত ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখ পূর্বাহ্নে উপচার্যের পদে থেকে নিজ বিভাগে অর্থাৎ ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে, অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন এবং ঐদিনই অপরাহ্নে উক্ত পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

উক্ত কারনে ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখে পূর্বাহ্ন থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত উপাচার্যের পদে সাময়িক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। উপাচার্য পদের সাময়িক শূন্যতা পূরণ কল্পে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ব্যতিরেকে ১নং নোটিশ গ্রহিতা শুধু একদিনের জন্য (অর্থাৎ ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখ) ড. আখতার ফারুক, ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয়-কে দায়িত্ব প্রদান করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতির বিরোধী। অত:পর ১নং নোটিশ গ্রহিতা ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখ অপরাহ্নে উপাচার্য হিসেবে আবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এছাড়া ১নং নোটিশ গ্রহিতার স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ সংক্রান্ত দলিলাদি ও বিশ¦িবদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অসাধারণ (এক্সটা অর্ডিনারি) সভার কার্যবিবরনী থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ১নং নোটিশ গ্রহিতা ‘রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩’ লঙ্ঘন করে এবং প্রতারনার মাধ্যমে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং উপাচার্যের পদে বহাল আছেন, যার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নে প্রদত্ত হলো।

৩. গত ২৫.০৭.২০১৭ইং তারিখের রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেটের অসাধারণ (এক্সট্রা অর্ডিনারী) সভায় ১ নং নোটিশ গ্রহিতার নিজ বিভাগ থেকে ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখের উক্ত স্বেচ্ছায় অবসর অনুমোদিত হয়। নিজের বিষয়ে সুবিধামত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ১নং নোটিশ গ্রহিতা সিন্ডিকেটের উক্ত সভায় বেআইনিভাবে সভাপতিত্ব করেন।

৪. গত ২৪.০৬.২০১৭ইং তারিখে ১নং নোটিশ গ্রহিতা মহামান্য রাষ্ট্রপতির বরাবর এক পত্রের মারফত ২৯.০৬.২০১৭ইং তারিখ অবসর গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদনের পূর্বেই, অর্থাৎ গত ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখে ১নং নোটিশ গ্রহিতা স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

২৪.০৬.২০১৭ইং তারিখের উক্ত পত্রে ১নং নোটিশ গ্রহিতা নি¤ ্নবর্ণিত বিষয়গুলো গোপন রেখে প্রতারণার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ পূর্বক উপাচার্যের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রার্থণা করেন:-

ক. ১নং নোটিশ গ্রহিতা উপাচার্যের পদে শূণ্যতা সৃষ্টি করে নিজ বিভাগে ২১.০৬.২০১৭ইং

তারিখ পূর্বাহ্নে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন;

খ. অত:পর সেখান থেকে একই দিন অপরাহ্নে ১নং নোটিশ গ্রহিতা ¯ে”^ছায় অবসর গ্রহণ করেন;

গ. ‘রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয় আইন, ১৯৭৩’ এর ১১নং ধারা লঙ্ঘন করে ১নং নোটিশ গ্রহিতা ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখে এক দিনের জন্য ড. আখতার ফারুককে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন; এবং

ঘ. ঐদিনই (২১.০৬.২০১৭ইং) আবার উপাচার্যের পদে ১নং নোটিশ গ্রহিতা যোগদান করেন;  উপরোক্ত তথ্য গোপন করে ১নং নোটিশ গ্রহিতা ২৯.০৬.২০১৭ইং তারিখে অবসর গ্রহণ করবেন বলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয়ের আচার্যের নিকট অসত্য তথ্য প্রদান করেন, যদিও ইতোমধ্যে ১নং নোটিশ গ্রহিতা গত ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখে অবসর গ্রহণ করেন।

১ নং নোটিশ গ্রহিতার প্রদত্ত অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য ২৯.০৬.২০১৭ইং তারিখ থেকে তাঁর অবসর পরবর্তী উপাচার্যের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুমতি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের স্মারক নং-শিম/শা:১৮/২রা:বি:-১/৯৭/২৫১, তারিখ: ২০ আগষ্ট ২০১৭ইং এর মাধ্যমে ১ নং নোটিশ গ্রহিতাকে এই অনুমতির তথ্য অবহিত করা হয়। উপরন্তু অত্র স্মারকে আরো উল্লেখ করা হয় যে, ১নং নোটিশ গ্রহিতার অনুপস্থিতে ২৯.০৬.২০১৭ইং তারিখে ড. আখতার ফারুক কর্তৃক

উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য মহোদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেন, যদিও ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখে উপাচার্য পদে সাময়িক শূণ্যতা সৃষ্টি হয়।  সুতরাং ১নং নোটিশ গ্রহিতা

তাঁর স্বেচ্ছায় অবসরের বিষয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য এর নিকট অসত্য ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি।

৫. অত:পর গত ৩১.১০.২০১৭ইং তারিখের সিন্ডিকেটের ৪৭৩তম সভায় ১নং নোটিশ গ্রহিতা নিজেই সভাপতিত্ব করে তাঁর ভবিষ্য তহবিলের জমাকৃত অর্থ সুদ সহ উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ১ নং নোটিশ গ্রহিতা তার পেনশন ভাতার ৮০,৮৭,৮৬৯.০০/- (আশি লক্ষ সাতাশি হাজার আটশত উনশত্তর টাকা) সোনালী ব্যাংক, রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয় শাখা থেকে উত্তোলন করেন। ১নং নোটিশ গ্রহিতা ২য় মেয়াদে পুনরায় ৪ (চার) বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে ৭.০৫.২০১৭ইং তারিখে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে হঠাৎ করে তিনি গত ২১.০৬.২০১৭ইং তারিখে তাঁর নিজ বিভাগ থেকে পদত্যাগের মূল কারণ ছিল অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত গত ৯.০১.২০১৭ইং তারিখের পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে পাশ কাটিয়ে তার প্রাপ্য পেনশনের শতভাগ টাকা উত্তোলন করা।

উক্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ জুলাই ২০১৭ইং তারিখ হতে পেনশনারগণ তাদের প্রাপ্য পেনশনের শতকরা ৫০ ভাগ বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে অবশিষ্ট ৫০ ভাগের জন্য নির্ধারিত হারে মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। সেহেতু ১ নং নোটিশ গ্রহিতা প্রতারনার মাধ্যমে এবং ‘রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয় আইন, ১৯৭৩’ লঙ্ঘন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অসত্য তথ্য প্রদান করে ১ জুলাই ২০১৭ইং তারিখের পূর্বে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন এবং পূনরায় উপাচার্য এর দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুমোদন হাসিল করেন।

বর্তমানে ১নং নোটিশ গ্রহিতা আইন ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে প্রতারনার মাধ্যমে রাজশাহী বিশ¦িবদ্যায়ের উপাচার্য পদে বহাল রয়েছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বেআইনি ও অনৈতিক কর্ম সম্পাদন করে ১নং নোটিশ গ্রহিতা বিশ¦িবদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন।

এমতাবস্থায়, সকল নোটিশ গ্রহিতাগণ কর্তৃক অত্র লিগাল নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ১নং নোটিশ গ্রহিতাকে রাজশাহী বিশ¦িবদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে নিম্নোক্ত অফিসে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করা হলো, অন্যথায় এ বিষয়ে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমার মক্কেল আমাদের নিদের্শনা প্রদান করেছেন।

আপনার মন্তব্য